বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনে তুরস্কের রাজধানী আনকারাতে পালিত হল 'জাতীয় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭'। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাজিত্তেপে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকটর প্রফেসর ড. আ. হালুক ওজেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন তুরস্কের সংস্কৃতি, ভাষা ও ইতিহাস বিষয়ক আতাতুর্ক সুপ্রিম কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ডেরয়া ওর্স।
আনকারার জাতীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনকারাস্থ বিভিন্ন দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনৈতিকগণ। এ ছাড়া ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষাবিদ, সংবাদ প্রতিনিধি ও বাংলাদেশি প্রবাসীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয় ।
IMG0
বাংলার পাশাপাশি আরও সাতটি ভাষার পরিবেশনা ছিল এবারের অনুষ্ঠানের নতুন চমক। এতে অংশগ্রহণকরী দল ও দূতাবাস হচ্ছে- আনকারা স্টেট ক্লাসিকাল টারকিশ মিউজিক কোয়ার্স , বাংলাদেশ, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, কঙ্গো, কিরগিজিস্তান ও ডেনমার্ক। বাংলা গান ও নাচের পাশাপাশি, ভিন্ন ভাষার গান, কবিতা ও নাচ সবাইকে মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয়।
IMG1
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. আ. হালুক ওজেন তাঁর সূচনা বক্তব্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০১৭ আয়োজন করায় আনকারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ককে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।
বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. ডেরয়া ওর্স তাঁর বক্তব্যে ভাষাকে সংস্কৃতির বাহক এবং সংস্কৃতির গতিধারার উন্নয়নে একুশের চেতনাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়াকে সব ভাষারই উন্নতি বলে মন্তব্য করেন ।
তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দিকী স্বাগত বক্তব্যে সকল ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অসামান্য অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
ইউনেস্কো কর্তৃক ১৯৯৯ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথাও তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেরণা বিশ্বময় বিভিন্ন ভাষার সংস্কৃতিকে বিকাশের পাশাপাশি লুপ্ত প্রায় ভাষাসমূহের সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে।
লেখক তুরস্কের আনকারার গাজি বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাংবাদিকতা বিভাগে অধ্যয়নরত