দুনিয়ার প্রযুক্তিপ্রেমী সব মানুষের কাছেই গুগল এক বিস্ময়ের নাম। আর যারা পেশা হিসেবে প্রযুক্তিভিত্তিক কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পরিকল্পনা করেন তাদের কাছে গুগলের চাকরি তো সোনার হরিণের মতো। সম্প্রতি গুগলে চাকরির জন্য চিঠি লিখেছে ৭ বছরের একটি বালিকা। গুগলের প্রধান নির্বাহী এর জবাবও দিয়েছেন। বিস্তারিত লিখেছেন মাহবুব শরীফ
ক্লোয়ি ব্রিজওয়াটার নামের ৭ বছরের বালিকা গুগলে চাকরি করার জন্য আবেদনপত্র পাঠিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সুন্দর পিচাইয়ের কাছে। আর সেই আবেদনপত্রে সাড়াও দিয়েছেন স্বয়ং পিচাই।
গুগলে চাকরি পেতে প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জ্ঞান এবং বিশেষ পারদর্শিতা থাকতে হয়। লাখ লাখ প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলেই কেবল স্বপ্নের সিঁড়িতে চড়ার স্বপ্ন পূরণ হয় গুটিকয়েক মানুষের। তবে এবার মাত্র সাত বছর বয়সেই কি-না গুগলে চাকরির আবেদন জানিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছে এক শিশু।
ক্লোয়ির চিঠি
‘ডিয়ার গুগল বস’ দিয়ে শুরু করে ক্লোয়ি লিখেছে, সে বড় হয়ে গুগলে চাকরি করতে চায়। আবেদনে নিজের দক্ষতার উল্লেখ করে সে লিখেছে, ‘আমি কম্পিউটার পছন্দ করি এবং আমার একটা ট্যাবলেটও আছে,যেটাতে আমি গেম খেলি।’ তাছাড়া চকলেট কারখানায় চাকরি ও অলিম্পিক সাঁতারে অংশ নিতে আগ্রহের কথাও জানিয়েছে ক্লায়ি।
চিঠির জবাবে সুন্দর পিচাই
জবাবে পিচাই লিখেছেন, ‘চিঠির জন্য তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আমি জেনে খুশি হয়েছি যে তুমি কম্পিউটার আর রোবোট পছন্দ কর আর আমি আশা করি তুমি প্রযুক্তির সম্পর্কে শেখা অব্যাহত রাখবে। আমি মনে করি তুমি কাজ করা চালিয়ে যাও আর তোমার স্বপ্নের পেছনে ছুটতে থাক, তুমি তোমার মনে যা ঠিক করে রাখবে সবই অর্জন করতে পারবে।’ পিচাই আরও লেখেন, ‘তুমি যখন স্কুল জীবন শেষ করবে, তখন তোমার চাকরির আবেদন পাওয়ার আশায় থাকবো! তুমি এবং তোমার পরিবারের সবার প্রতি শুভ কামনা।’
দুটি চিঠিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে প্রকাশ করেছেন ক্লোয়ির বাবা অ্যান্ডি ব্রিজওয়াটার।
প্রিয় গুগল বস। আমার নাম ক্লোয়ি এবং বড় হয়ে গুগলে একটি চাকরি পেতে চাই- এভাবেই আইটি জায়ান্ট গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইয়ের কাছে চাকরি চেয়ে চিঠি লিখেছে সাত বছরের শিশু ক্লোয়ি ব্রিজওয়াটার। আর সেই চিঠি পাঠিয়ে রীতিমতো অবাকও হয়েছে ছোট্ট এই ব্রিটিশ মেয়ে। ক্লোয়ি চিঠিতে তার ছোট বোনের কথাও উল্ল্যেখ করেছে। ছোট বোন সম্পর্কে লিখে, ‘৫ বছরের বোন মলিরও খুব বুদ্ধি। তবে সে সাজতে গুজতে আর পুতুল খেলতে ভালবাসে। বাবাই তাকে বলেছেন, চাকরির জন্য গুগলে অ্যাপ্লাই করতে। নিজের বোন সম্পর্কেও লিখেছে সে, আমার বোন পুতুল আর জামা বেশি পছন্দ করে।’
ক্লোয়ি কখনোই ভাবেনি চিঠির জবাব দেবেন পিচাই। কিন্তু তাই ঘটেছে। এই শিশুর চিঠির উত্তরও দিয়েছেন গুগল প্রধান। এতে ক্লোয়িকে অনুপ্রাণিত করেছেন তিনি। কঠোর চেষ্টা করে যাওয়া এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে লেগে থাকার উপদেশ দিয়েছেন। পড়াশুনা শেষ করে আনুষ্ঠানিকভাবে গুগলে আবেদনের জন্যও ক্লোয়িকে বলেছেন পিচাই। ক্লোয়ির চিঠিটি ছিল হাতে লেখা। ওই চিঠি লিখতে তাকে উত্সাহিত করেছেন তার বাবা। গুগলে কাজ করার ব্যাপারেও বাবা অ্যান্ডি ব্রিজওয়াটারের কাছ থেকেই ধারণা পেয়েছে কোলে। তিনি মেয়েকে বলেছেন, কাজের জন্য গুগল হচ্ছে একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। গুগলের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কার্যালয়টি সম্পর্কেও ধারণা দিয়েছেন মেয়েকে।
বাবার কাছ থেকে এসব শুনেই গুগলের ব্যাপারে নিজের আগ্রহ বাড়তে থাকে কোলের। কীভাবে গুগলে কাজ করা যায়, সে ব্যাপারে বাবার কাছে জানতে চাইলে তিনি গুগল প্রধানের কাছে চিঠি লেখার জন্য বলেন মেয়েকে। সুন্দর পিচাইয়ের কাছে লেখা চিঠিতে ক্লোয়ি লিখেছে, সে কম্পিউটার, রোবট, ট্যাব পছন্দ করে এবং স্কুলের ভাল একজন শিক্ষার্থী। গুগলে কাজ করা ছাড়াও চকলেট ফ্যাক্টরির কাজ এবং অলিম্পিকের সাঁতার প্রতিযোগিতায় নিজের আগ্রহের কথাও লিখেছে ক্লোয়ি । এদিকে সবচে কমবয়সী কর্মীর গুগলে চাকরি করার আবেদন পেয়ে আপ্লুত হয়েছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাইও। সাত বছরের এই মেয়েকে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, তোমার চিঠির জন্য ধন্যবাদ। গুগলে চাকরি করার ইচ্ছা? সাত বছরের কোলের ইচ্ছাকে সম্মান জানাই। তিনি আরো লেখেন, স্কুল শিক্ষা শেষ করে নাও, আমি অপেক্ষা করব।
ছোট্ট মেয়ের চিঠির জবাব দিয়েছেন সুন্দর পিচাই। লিখেছেন, পরিশ্রম করলে গুগলে চাকরি থেকে অলিম্পিকে সাঁতার- সব করতে পারবে সে। আর স্কুলের পড়াশোনাটা আগে শেষ করুক। তারপর তার চাকরির আবেদন বিবেচনা করবেন তিনি। পিচাই বলেছেন, ‘ক্লোয়ি তোমাকে অসংখ্য অভিনন্দন। আমার জেনে আনন্দ হচ্ছে যে তুমি কম্পিউটার এবং রোবট পছন্দ কর। আশা করছি এ রকমভাবেই তুমি প্রযুক্তি শিক্ষা চালিয়ে যাবে। আমি মনে করি, তোমার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে যদি কঠোর পরিশ্রম করতে থাক তাহলে তুমি যা কিছু ভাবছ গুগলে কাজ করা বা অলিম্পিকে সাঁতার কাটা সবই সম্ভব হবে। স্কুলের পাঠ শেষ করে তুমি কখন চাকরির আবেদন করবে সেই অপেক্ষায় থাকব। তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে আমার তরফ থেকে শুভেচ্ছা রইল। সিএনএন।
ইত্তেফাক/রাফাত