নিউইয়র্কে ব্যবসায়ী জাকির খানের খুনীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ গঠন

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খানকে কমপক্ষে কমপক্ষে ২৬ বার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। হত্যার পর খুনী বাড়িমালিক তাহা মাহরান (৫১) পার্শ্ববর্তী ড্রেনে ছুরি ফেলে ঘটনাস্থলের অদূরে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করে। আদালত খুনীর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ধাপের হত্যাকাণ্ডের (সেকেন্ড ডিগ্রি মার্ডার) অভিযোগ গঠন করেছে। 
 
এই অপরাধে খুনীর দীর্ঘমেয়াদে কারাদণ্ড হতে পারে। তবে ১২ বছরের শিশুপুত্রের সামনে তার পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় খুনী তাহা মাহরানের অধিক শাস্তি হতে পারে বলে জানা গেছে। খুনীর মানসিক সমস্যা আছে কীনা নিয়মানুযায়ী তা হাসপাতালে পরীক্ষা করা হয়েছে। 
জাকির খানের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও কমিউনিটি লিডার আহ্বাব চৌধুরী খোকন বলেন, বিশ্বাস করতে পারছি না জাকির খান নেই। 
 
এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার জুমার নামাজের পর ব্র্ঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদে জাকির খানের নামাজে জানাযা হওয়ার কথা রয়েছে। নামাজের জানাযার পর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং খুনী তাহা মারহানের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপের (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করারও কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড। 
 
উল্লেখ্য, স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নিজ বাসায় বাড়ির মালিকের উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে খুন হন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী জাকির খান। বাড়ি মালিকের সঙ্গে বাসা ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বিরোধ ছিল, যা আদালতে বিচারাধীন ছিল। খুনী তাহা মারহান একজন মিশরীয়। 
 
ইত্তেফাক/মাহমুদুল