আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নিউইয়র্কে বাংলাদেশি নাঈমা খানকে সম্মাননা

 
নিউইয়র্ক ভিত্তিক কনসাল জেনারেলদের সংগঠন সোসাইটি অব ফরেন কনসাল (এসওএফসি)'র বিশেষ সম্মাননা পেলেন নিউইয়র্কের খ্যাতনামা টিউটোরিয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বহেমিয়ান হলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে নাঈমা খানের হাতে সম্মাননা তুলে দেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান।
 
সমাজের নানান ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর নাঈমা খানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৮ জন নারীকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। নাঈমা খানের স্বামী ও খানস টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত ড. মনসুর খান  শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক লাভ করেন। মনসুর খানের হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান খানস টিউটোরিয়াল নিউইয়র্কে বাংলাদেশী নতুন প্রজন্মকে মেধাবী হিসাবে গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এর ফলে নিউইয়র্ক সিটির বিশেষায়িত স্কুলে প্রতিবছর ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশী নতুন প্রজন্ম।
 
নাঈমা খানের এই সম্মাননায় দারুণ খুশী তার একমাত্র সন্তান ও খানস টিউটোরিয়ালের সিইও ডা. ইভান খান। তিনি বলেন, মায়ের এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে ছেলে হিসাবে আমি গর্বিত। এজন্য তিনি আয়োজকদের ধন্যবাদসহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 
উল্লেখ্য, খানস টিউটোরিয়াল ছাড়াও নাঈমা খান অলাভজনক প্রতিষ্ঠান খান ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আন-ডকুমেন্টেড শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, স্বল্প আয়ের প্রবাসী ও তরুণীদের স্বাবলম্বী হতে সহায়তা দিয়ে আসছে।
 
IMG0
 
এ অনুষ্ঠানে নাঈমা খানকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান ছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ফ্যাশন নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশি আমেরিকান ফ্যাশন হাউজ রুনিজ ডিজায়ারের কর্ণধার রোজিনা আহমেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
 
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কনস্যুলেট জেনারেলসমুহ একইসঙ্গে তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি তুলে ধরে। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয় এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। বিশেষত, সরকার, বাণিজ্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ এবং দৃশ্যমান অবদানের জন্য অংশগ্রহণকারী ১৮টি দেশের বিশিষ্ট নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল-এর সুপারিশক্রমে খানস টিউটোরিয়াল-এর চেয়ারপারসন নাঈমা খানকে শিক্ষা ক্ষেত্রে কমিউনিটিতে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রত্যেক দেশের মনোনীত প্রার্থীকে স্ব স্ব দেশের কনসাল জেনারেল এবং সোসাইটির সভাপতির উপস্থিতিতে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
 
বাংলাদেশের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির পরিচায়ক হস্তশিল্প সামগ্রীসহ অন্যান্য উপাদান দিয়ে সুসজ্জিত স্টলে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খাবার স্থান পায় যা বিপুল সংখ্যক বিদেশী অতিথিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরার অংশ হিসেবে দেশাত্মবোধক গানের সঙ্গে একটি দৃষ্টিনন্দন দলীয় নৃত্য উপস্থাপন করে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফরমিং আর্টস-বিপা’র শিল্পীবৃন্দ। বিভিন্ন দেশের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক পর্বটি অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ করে। 
 
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কর্তৃক উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের কাছে বাংলাদেশের বিশেষ করে প্রবাসী বিশিষ্ট নারীদের অবদানসহ বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি উপস্থাপনের সুযোগ ঘটে।
 
কনসাল জেনারেল মো. শামীম আহসান, তাঁর স্ত্রী পেন্ডোরা চৌধুরী, কনস্যুলেট-এর কর্মকর্তা, কর্মকর্তাদের স্ত্রী এবং কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
 
১৯২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সোসাইটি ফর ফরেন কনসালস নিউইয়র্ক ভিত্তিক কনস্যুলেট, কনস্যুলেট জেনারেল এবং অনারারি কনস্যুলেটগুলোর সমন্বয়ে গঠিত বিশ্বের বৃহত্তম কনস্যুলার কোর।
 
ইত্তেফাক/রাফাত