বাংলাদেশ উপ হাইকমিশন, মুম্বাইয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত

ভারতের মুম্বাইয়ে বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ যথাযোগ্য মযার্দায় পালন করা হয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ২৬ মার্চ ২০১৭ তারিখ প্রত্যূষে উপ হাইকমিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত বাজানো, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, বঙ্গবন্ধু ও  মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনা এবং প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকী উদযানে সন্ধ্যায় আড়ম্বরপূর্ণ এক অভ্যর্থনার আয়োজনসহ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মহারাষ্ট্র সরকারের মূখ্যমন্ত্রীর সহধর্মিনী এবং একজন ব্যাংকার, সমাজকর্মী ও সংগীতশিল্পী মিসেস আমরুতা ফাদ্নাভিস প্রধান অতিথি এবং মহারাষ্ট্র সরকারের চিফ সেক্রেটারী জনাব সুমিত মল্লিক  গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ”সার্ক”-এর শুভেচ্ছাদূত এবং বাংলাদেশের কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। তিনি এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
IMG0
মুম্বাই-এ নিযুক্ত বাংলাদেশের উপ হাইকমিশনার মিজ সামিনা নাজ আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। জাতীয় পতাকা উত্তোলন শেষে মহান এ দিবসে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-এর বাণী পাঠ করা হয়। এরপর ’বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা এবং প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় মুম্বাইয়ে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিবৃন্দ, স্থানীয় অতিথিবৃন্দ এবং উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  উপ হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জাতির জনক ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। ত্রিশ লক্ষাধিক শহীদদের আত্মত্যাগ এবং দুই লক্ষাধিক মা ও বোনের সম্মানের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা তিনি ও অন্যান্য বক্তারা বিনম্র শ্রদ্ধা সহকারে স্মরণ করেন।

বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জনের ওপর উপ হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে আলোকপাত করেন।

আলোচনা শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।
IMG1
সন্ধ্যায় স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী হোটেল ”তাজমহল প্যালেস”-এ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। জাতীয় সঙ্গীত শেষে উপ হাইকমিশনার আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের জাতির জনক ও স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। আমাদের মুক্তি সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের কথাও তিনি এ সময় কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন এবং লক্ষাধিক নারীর সম্ভ্রমহানী ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করেন।

উপ হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কর্তৃক দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জনের উপর আলোকপাত করেন। এছাড়াও বাংলাদেশে বিদ্যমান অনুকূল ব্যবসা বাণিজ্যের কথাও তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে বাংলাদেশে অধিকতর বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
IMG2
অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে মহারাষ্ট্র সরকারের মূখ্যমন্ত্রীর সহধর্মিনী এবং একজন ব্যাংকার, সমাজকর্মী ও সংগীতশিল্পী মিসেস আমরুতা ফাদ্নাভিস প্রধান অতিথি এবং মহারাষ্ট্র সরকারের চীফ সেক্রেটারী জনাব সুমিত মল্লিক  গেস্ট অব অনার হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে মহান এ দিবসে বাংলাদেশ সরকার ও তাঁর সকল জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান এ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।

এ সময় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন ”সার্ক”-এর শুভেচ্ছাদূত এবং বাংলাদেশের কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি রুনা লায়লা। ফার্স্ট লেডি মিসেস আমরুতা ফাদ্নাভিস এবং রুনা লায়লা একত্রে সংগীত পরিবেশন করে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্মীলনী ও বন্ধুত্বের এক দৃষ্টান্তমূলক নজীর স্থাপন করেন।

অন্যান্য আমন্ত্রিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মহারাষ্ট্র সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিদেশী কূটনৈতিক মিশনের প্রধান এবং প্রতিনিধিগণ, মুম্বাই-এ বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশী, স্থানীয় চেম্বার অব কমার্স ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রধান ও প্রতিনিধিগণ ভারতীয় নৌবাহিনীর ওয়েস্টার্ন নেভাল কমান্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, স্বনামধন্য মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ভারতীয় সংগীতশিল্পী মিতালী মুখার্জী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সর্বশেষে কেক কাটা, সংগীত পরিবেশনা ও এক নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রখ্যাত সংগীত শিল্পী মিতালী মুখার্জীও সংগীত পরিবেশন করেন।

ইত্তেফাক/নূহু