উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ডেনমার্কে বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় কোপেনহেগেনে বাংলাদেশ দূতাবাসের আটলান্টিক হলে দিবসটি উপলক্ষ্যে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐ অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়/দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও চার্জ দ্যা এফেয়ার্স, কূটনীতিক, সংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং দুইশতাধিক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা যুদ্ধ দিনের বন্ধু ড। কারস্টেন ওয়েস্টারগার্ড আর স্বাধীনতার পর প্রথম ডেনিশ নাগরিক হিসেবে ঢাকায় সফর করা মি. সেন্ধসঢ় রোসেনগার্ডের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে।
দুইদেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত তাঁর শুভেচ্ছা বক্তৃতায় স্বাধীন বাংলার স্থপতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তৃতায় ডেনিশ ব্যবসায়ীদের প্রতি বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, জাহাজ নির্মাণ, ঔষধশিল্প, পাটজাত দ্রব্য, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্নখাতে বাণিজ্য প্রসারের আহ্বান জানান। ২০২১ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দ্বারা ৩৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে বাংলাদেশ সরকারের লক্ষ্যমাত্রার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করে তিনি ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। IMG0
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সান্ধ্যভোজে দূতাবাসের আয়োজনে মুখোরোচক দেশি খাবার পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ কর্নার’-এ বাংলাদেশি বাইসাইকেল, হস্তশিল্প, মসলিন, জামদানি,
সিরমিক, জুয়েলারিসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষ্যে ডেনমার্কের বহুলপ্রচারিত ইংরেজি দৈনিক ‘দি কোপেনহেগেন পোস্ট’ এ ১৬ পাতার একটি বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়।