বর্ণাঢ্য আয়োজনে স্টকহোমে উদযাপিত হল বাংলাদেশের ৪৭তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। সোমবার স্টকহোম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরাটন হোটেলে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক এক জাকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
অভ্যর্থনায় স্টকহোমস্থ বিভিন্ন বিদেশী দূতাবাস-এর রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাগণ, সুইডিশ সরকার ও পার্লামেন্টের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, ব্যবসায়ীবৃন্দ, সুইডেন-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (এসবিবিসি)-এর নেতৃবৃন্দ এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেয়।
অভ্যর্থনা উপলক্ষ্যে শেরাটন হোটেলের সংশ্লিষ্ট হল ও সংলগ্ন চত্বর বর্ণিল সাজে সজ্জিত করা হয়, যেখানে লাল-সবুজের সমাহার-ই প্রাধান্য পায়। অভ্যর্থনা হলের বাইরে বাংলাদেশের পাট, বস্ত্র, বিভিন্ন কুটির শিল্পজাত পণ্য, রংবেরং-এর মাটির পাত্র, জামদানি, নকশি কাঁথা, সিরামিকস পণ্য প্রভৃতি সামগ্রীর চোখ জুড়ানো প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই বাংলাদেশ ও সুইডেনের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়। এর পর একটি সংক্ষিপ্ত অথচ মনোজ্ঞ বাংলাদেশী নৃত্য পরিবেশিত হয় যাতে বাংলাদেশের সুদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, জীবন, সংস্কৃতি ও দেশাত্ববোধ শিল্পিত রূপ পায়। রাষ্ট্রদূত জনাব মোঃ গোলাম সারোয়ার তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন এবং ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা-বোনের হারানো সম্ভ্রমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বাংলাদেশের ক্রমোন্নতিশীল ব্যবসা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এর পরিবেশের উপর আলোকপাত করার প্রেক্ষাপটে তিনি বাংলাদেশের বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক মূল্যায়ন সমূহ তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সরব ও প্রশংসনীয় উপস্থিতিও স্থান পায় তাঁর বক্তব্যে। উপস্থিত অতিথিবৃন্দ রাষ্ট্রদূতের আহ্বানে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। আগত অতিথিবৃন্দ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের প্রতিটি আঙ্গিকের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সাজ-সজ্জার নিখুঁত পরিকল্পনা ও পরিমিতিবোধের প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে তাঁরা ছিলেন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পরিবেশিত নৃত্য ও বাংলাদেশের খাবারের বিষয়েও তাঁদের মুগ্ধতা প্রকাশে অতিথিবৃন্দের কোনরূপ কার্পণ্য ছিলনা। স্টকহোমের বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দূতাবাস তার নিজস্ব প্রাঙ্গণে শুধুমাত্র প্রবাসীদের জন্য আরও একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।-প্রেস রিলিজ।
ইত্তেফাক/সাব্বির