বানারীপাড়ায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের এক নেতার কারণে অসহায় এক রিকশাচালকের পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে গোয়ালঘরে। অমানবিক এ বিষয়টি জানার পর সরেজমিন গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। এমনকি ওই অরক্ষিত গোয়ালঘরে বসে লেখাপড়া করে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে নাসির হাওলাদার নামের ওই রিকশাচালকের মেয়ে। গত তিনমাস ধরে দুই সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবারটি গোয়ালঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করলেও প্রশাসন কিংবা কেউ তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। নাসির হাওলাদার এ ব্যাপারে প্রশাসনসহ সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এর কোনো প্রতিকার পাননি। ফলে আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের একজন নেতার এতো ক্ষমতার উত্স কোথায় সে প্রশ্ন এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
জানা গেছে, ৪৬ নং ধারালিয়া মৌজার ২৫ শতাংশ জমির মালিক মোঃ নাসির হাওলাদার তার সম্পত্তিতে দীর্ঘ প্রায় ১৫/১৬ বছর পর্যন্ত পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। এই জমি নিজেদের দাবি করে একই ওয়ার্ডের মোঃ জাকির হোসেন সলিয়াবাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে একটি মামলা রুজু করেন। ২০১২ সালের চার অক্টোবর গ্রাম আদালতের রায়ে বাদীর পিতা ও পিতামহ বা বাদীর নিজ নামে কোনো রেকর্ডীয় ভূমি নেই এবং বাদীর দাবি ভিত্তিহীন। গ্রাম আদালতের রায় না মেনে জাকির হোসেনের বড় ভাই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বরিশাল বিজ্ঞ অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় নাসির হাওলাদারসহ মোট পাঁচজনকে বিবাদী করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে বানারীপাড়া থানায় তদন্ত নোটিস পাঠায়। পরে বানারীপাড়া থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক এসআই মোঃ রিয়াজউদ্দিন উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ওই সম্পত্তিতে কোনো স্থাপনা না উঠানোর জন্য বলেন।
এদিকে গত জানুয়ারি মাসে জীর্ণ বসতঘর ভেঙে নতুন ঘর তোলার সময় মোজাম্মেল গংরা বাধা দিলে নাসিরের পরিবার তাদের গোয়ালঘরে বসবাস শুরু করেন। তার মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ওই গোলায়ঘরে বসে হ্যারিকেনের আলোতে লেখাপড়া করে। অরক্ষিত গোয়ালঘরে বসে লেখাপড়া করেও পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করে এখন বানারীপাড়া ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ছাত্রী সে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জিয়াউল হক মিন্টু জানান, ২০১৩ সালে উভয়পক্ষের কাগজপত্র দেখে মোজাম্মেল গংদের পক্ষে গ্রাম আদালতে কোনো কাগজপত্র না দেখাতে পারলে বিবাদী মোঃ নাসির হাওলাদারের পক্ষে লিখিত রায় দেওয়া হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোজাম্মেল হোসেনের খালাতো ভাই মোঃ শাহ আলম বলেন, ওই সম্পত্তিতে নাসির হাওলাদার তার পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রায় ১৫/১৬ পর্যন্ত বসবাস করছেন। ক্ষমতার দাপটে অসহায় রিকশাচালক নাসির হাওলাদারের সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানায়।
ইত্তেফাক/নূহু