লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল থেকে উপজেলা সদর আলেকজান্ডারে যাওয়ার সব কয়টি (চারটি) সড়কই চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কগুলোতে কার্পেটিং ও মেকাডম উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় ওই সড়কগুলোতে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে হালকা কিছু যানবাহন চলাচল করলেও বাস ও মালামাল পরিবহনের কোনো গাড়ি চলতে পারছে না। তবে সামান্য বৃষ্টি হলেই সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উপজেলার দক্ষিণ অঞ্চলের চরগাজী, বড়খেরি, চররমিজ, চরআলগী, চরবাদাম ও চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের লোকজন উপজেলা সদরে যেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। একই কারণে উপজেলা সদর থেকে প্রশাসনিক বা অন্য কোনো কাজে ওই ইউনিয়নগুলোতে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
জানা যায়, দক্ষিণ অঞ্চল থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার প্রধান সড়কটি (আলেকজান্ডার-সোনাপুর আঞ্চলিক সড়ক) ৪-৫ বছর আগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মেঘনা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে। এই ভাঙন প্রতিরোধে দু’বছর ধরে সেখানে ব্লক ও বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে সড়কটি প্রায় ৫-৬ ফুট বাঁধের নিচে পড়লেও সেখানে বিকল্প কোনো সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত এ সড়কটির বিকল্প নুরিয়া হাজিরহাট সড়ক হয়ে পৌরসভার সাহাপাড়া সড়ক ও আরসি সড়ক ব্যবহার করে উপজেলা সদরে যাতায়াত করা যায়। তবে কার্পেটিং ওঠে গিয়ে ওই তিনটি সড়কেও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চর হাসান-হোসেন মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসা থেকে চর সেকান্দর পাটোয়ারিপাড়া মোড় পর্যন্ত নুরিয়া হাজিরহাট সড়কের কার্পেটিং ওঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ওই এলাকার লোকজন এবং নুরিয়া হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় তা চলাচল অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে সরদারপাড়া পর্যন্ত আরসি সড়কটির (প্রায় এক কিলোমিটার) ইটের মেকাডম নষ্ট হয়ে গেছে। এ আখের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে সাহাপাড়া সড়কের কার্পেটিং ওঠে গেছে। ওই সড়কে সুলতান বেপারী বাড়ির পাশে একটি সেতুও ভেঙে গেছে।
বড়খেরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের রামগতি উপজেলা কমান্ডার হাসান মাহমুদ ফেরদৌস বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার জন্য দক্ষিণ অঞ্চল থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াতে চরম সমস্যা হচ্ছে। বর্ষায় এ দুর্ভোগ আরো বাড়বে। তিনি সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান।
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে প্রায় ৫০০ ফুট সড়ক নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধের নিচে পড়েছে। বিকল্প সড়ক নির্মাণ করতে হলে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এতে এ সড়কটি সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।
রামগতি পৌরসভার মেয়র এম মেজবাহ উদ্দিন বলেন, সাহাপাড়া সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ওই সড়কে ক্ষতিগ্রস্ত একটি সেতু সংস্কারের কাজ চলছে।
উপজেলা প্রকৌশলী জি এম কামাল জানান, নুরিয়া হাজিরহাট সড়কটি সংস্কারের জন্য প্রায় ৭৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ওই সড়কের মদিনাতুল উলুম কওমি মাদ্রাসা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত আরো ৭০০ মিটার সংস্কারের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বর্ষার আগে কাজ করা সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।
ইত্তেফাক/নূহু