খেলোয়াড়দের মধ্যে মারামারি

লালকার্ড পেলেন চার ফুটবলার

ফেডারেশন কাপ ফুটবলে ঘোরতর মারামারি হয়েছে গতকাল শুক্রবার। এক সময় মোহামেডান আবাহনীর খেলায় এমনটা হতো। কিন্তু নতুন দল বসুন্ধরা কিংসের বিপক্ষে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে আবাহনীর লড়াই শেষ হয়েছে ট্রফি জয়ের পাশাপাশি মারামারি ও লালকার্ড দিয়ে। এদিন অবশ্য খেলোয়াড়রা মাঠে মারামারি করলেও তা গ্যালারিতে ছড়ায়নি। মোহামেডান আবাহনীর লড়াই হলে সেটা হয়তো গ্যালারিতেও ছড়াতো। খেলার শুরু থেকেই উত্তেজনা ছিল খেলোয়াড়দের মাঝে। কিন্তু রেফারি সেটা আমলে না নিয়ে উদাসীন ছিলেন। এ কারণেই খেলার শেষ দিকে মারামারি রূপ নিল আরও বড় আকারে। ৮১ মিনিটের মধ্যে বসুন্ধরা কিংস ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরই এর সূত্রপাত। প্রথম দফায় বসুন্ধরার ডিফেন্ডার আবাহনী ছেড়ে যাওয়া নাসির চৌধুরী আঘাত করেন আবাহনীর নাইজেরিয়ান সানডে চিজোবাকে। সানডে মাটিতে পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারালে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আবারও খেলা শুরু হয়। এবার বাঁশি বাজার মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে আবার মারামারি। সানডের বদলে খেলতে নামা নাবীব নেওয়াজ জীবন বলসহ বসুন্ধরার সুশান্ত ত্রিপুরাকে ঘুষি মারেন। সুশান্ত পাল্টা আঘাত করে জীবনের পেটে লাথি মারেন, ঘুষি মারেন। জীবন মাটিতে পড়ে গেলে অন্যরা থামান। কিন্তু দূর থেকে দৌড়ে এসে আবাহনীর বদলি ফুটবলার মামুন মিয়া ফ্লাইং কিক করেন সুশান্তর পিঠে। তা দেখে আরেক বদলি ফুটবলার তৌহিদুল আলম সবুজ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন মামুন মিয়ার সঙ্গে।

আবাহনীর ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিত দাস রুপু দৌড়ে গিয়ে মামুন মিয়াকে ধমক দেন। রুপু বুঝতে পারেন নিশ্চিত ট্রফি জয়ের সময়ে অন্য কোনো অঘটন ঘটতে দেওয়া যাবে না। রেফারি শেষ পর্যন্ত যে চারজন প্রত্যক্ষভাবে মারামারি করেছেন তাদের ডেকে নিয়ে লালকার্ড দেখান। এরা হলেন বসুন্ধরা কিংসের তৌহিদুল আলম সবুজ, সুশান্ত ত্রিপুরা এবং আবাহনীর নাবীব নেওয়াজ জীবন ও মামুন মিয়া।  

লালকার্ড পেয়ে চার ফুটবলার মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়লেও যিনি মারামারির মূল উত্স বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার নাসির চৌধুরী রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে চলে যান। অথচ এই নাসির যেভাবে সানডেকে আঘাত করেছেন তা ছিল মারাত্মক।

খেলা শেষে বসুন্ধরার স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজেন খুব অসন্তুষ্ট। তিনি সরাসরি রেফারিকে দায় দিয়ে বলেন, ‘দ্বিতীয়ার্ধে রেফারি আমাদের প্রতি খারাপ আচরণ করেছেন। রেফারি আবাহনীর পক্ষ নিয়েছে। আমরা রেফারির বিপক্ষে বাফুফেকে চিঠি দেব।’ খেলা নিয়ে এই কোচ বললেন, ‘আমরা শেষ ২০ মিনিট ভালো খেলেনি। আমার খেলোয়াড়রা হতাশ করেছে।’

মারামারি নিয়ে বসুন্ধরার কোচ আরও বলেন, ‘রেফারির উচিত ছিল ঘটনাটা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা। ত্রিপুরাকে আগে জীবন মেরেছিল। তারপর সুশান্ত মাথা গরম করে ফেলে। এরপর আবাহনীর এক প্লেয়ার এসে ত্রিপুরাকে আঘাত করে। এটা তো ফুটবল নয়। রেফারির কারণেই আমরা আজকে হেরেছি।’

আবাহনীর অধিনায়ক গোলকিপার সোহেল সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘খেলার শুরুতেই আমরা মাথা গরম করেছিলাম। ওরা (বসুন্ধরা কিংস) বড় দল আমরাও বড় দল। কিন্তু বিরতির সময় আমাদের কোচ এবং রুপুদা মাথা ঠান্ডা করে খেলতে বলেন। এখনও অনেক সুযোগ রয়েছে। গোল শোধ করতে হলে ঠান্ডা মাথায় খেলতে হবে। আমরা সেভাবেই খেলি।’