রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও মডেল রাউধা আথিফের মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলা তদন্তে পুলিশ তাঁর বান্ধবী সিরাত পারভিনকে দেশ ত্যাগ করতে নিষেধ করেছে। সেই সঙ্গে ইমিগ্রেশন দপ্তরগুলোকেও বিষয়টি অবহিত করেছে। সিরাতের বাড়ি ভারতের কাশ্মীরে। তিনি রাউধার সহপাঠী ও বান্ধবী।
এর আগে গত ১০ মার্চ সিরাতকে একমাত্র আসামি করে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আথিফ রাজশাহীর আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে নগরীর শাহ্ মখদুম থানাকে তদন্তের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি উচ্চতর তদন্তের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশনা দেয়া হয়। মামলাটি বর্তমানে রাজশাহী সিআইডির ইন্সপেক্টর আসমাউল হোসেন তদন্ত করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে আদালত পুনঃময়নাতদন্তের জন্য রাউধার লাশ উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসমাউল হোসেন বলেন, ‘আদালতের আদেশনামা আমরা হাতে পেয়েছি। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. রক্তিম চৌধুরীকে লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত থাকার জন্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে চিকিৎসক না পাওয়ায় আমরা লাশ উত্তোলনের দিনক্ষণ এখনো ঠিক করতে পারিনি। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রাউধার লাশের পুনঃময়নাতদন্তের জন্য এবার অন্য মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকের সহযোগিতা নেয়া হবে। এর জন্য মেডিক্যাল থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সেখান থেকে কাউকে পেলেই আমরা নগরীর হেতমখাঁ গোরস্থান থেকে রাউধার লাশ উত্তোলন করব। এ জন্য সব প্রক্রিয়া ঠিক করা আছে। ’
নগরীর শাহ্ মখদুম থানার এসআই আনোয়ার তুহিন জানান, হত্যা মামলা দায়ের করার পরই তিনি রাউধার বান্ধবী সিরাতকে বাংলাদেশ ত্যাগ না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ মামলার তদন্ত চলাবস্থায় তিনি দেশ ত্যাগ করলে তদন্তে সমস্যা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিরাতকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়। পাশাপাশি নির্দেশ অমান্য করে সিরাত যেন দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, সে জন্য ইমিগ্রেশনগুলোতে সতর্ক করে দেয়া হয়। সিরাত দেশ ত্যাগ করতে চাইলে পুলিশকে অবশ্যই অবহিত করতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ দুপুরে রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষ থেকে রাউধার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ওই দিনই একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। তবে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আথিফ ও মা আমিনাথ মুহারমিমাথসহ পরিবারের লোকজন দাবি করতে থাকেন, তাঁদের মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। রাউধার বান্ধবী সিরাত পারভিন এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাঁদের অভিযোগ, সিরাত জার্মানিতে থাকা রাউধার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে প্রেম করতে চেয়েছিলেন। এতে রাউধা বাধা দেওয়ায় তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/সাব্বির