প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে গ্রীসের রাজধানী এথেন্সের প্রাণকেন্দ্রে বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান ব্যাপক আনন্দ ও উদ্দীপনার সঙ্গে পালন করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় দোয়েল একাডেমী ও দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের হল রুমে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বৈশাখী অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন গ্রীসের শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মাননীয় অল্টারনেট মিনিস্টার থেয়ানু ফতিউ। আরো উপস্থিত ছিলেন গ্রীসের শিক্ষা মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা থেমিস দিমিত্রাকোপুলোস, ডিজিটাল ও টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা কারানাসিওস কোসতানটিনোস, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক টিটু, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাহিম মোল্লা, দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দাদন মিয়া, দোয়েল একাডেমির প্রিন্সিপাল জাহিদুল হক, বাংলাদেশ গ্রীস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ, কমিউনিটির সভাপতিআব্দুল কুদ্দুস, বাংলাদেশ কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালেক মাতব্বর, আওয়ামীলীগের নেতা মান্নান মাতব্বর, বাবুল হাওলাদার, বাচ্চু ব্যাপারী, রকিব মৃধা, কমিউনিটির নেতা গোলাম মাওলা, তাজুল ইসলাম,গার্মেন্টসের মালিক সমিতির সভাপতি শেখ আলআমিনসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন জেলা ও আঞ্চলিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন গ্রীসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দোয়েল একাডেমির শিক্ষার্থী মুরসালিন, ফাহিম ফয়সাল, নুসরাত জাহান স্নেহা ও শাওয়াজিদ আলম।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন দোয়েল একাডেমির শিশুরা এবং বিউটিফুল বাংলাদেশ একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শনের মধ্যে দিয়েমন্ত্রী মহোদয়ের উদ্দ্যেশে ফাহিম ফয়সাল মানপত্র পাঠ করে শোনান। দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দোয়েল একাডেমির প্রিন্সিপাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত স্কুলের বিভিন্ন সার্থকতা ও সমস্যার উল্লেখযোগ্য দিকগুলো তুলে ধরেন। দোয়েল একাডেমী এবং দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন আগামী দিনে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মন্ত্রী মহোদয়ের সর্বত সহযোগিতার দাবি করেন।
বাংলাদেশ গ্রীস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আরিফুর রহমান আরিফ মন্ত্রী মহোদয়সহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উপদেষ্টা থেমিস দিমিত্রাকোপুলোস, ডিজিটাল ও টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা কারানাসিওস কোসতানটিনোস এবং বর্তমান সরকারের কেন্দ্রীয় উপস্থিত নেতাদের নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০১৩ সালে গ্রীসের স্ট্রবেরী ফার্মে গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী মহোদয়ের ঐ সময়ের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন আজকের শ্রম মন্ত্রী ২০১৩ সালে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাশে মায়ের মত ভালবাসা দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারবদ্ধ ছিলেন। ২০১৩ সালের শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠার নেত্রী আজকের শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মাননীয় অলটারনেট মিনিস্টার হওয়াতে আমরা গর্ববোধ করি। তিনি আরো বলেন দু’দেশের শিক্ষা সাংস্কৃতির মধ্যে দিয়ে আমরা একে অপরের প্রতি আরো গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবো। সকল বাংলাদেশীদের বৈধ কাগজ পত্র দিয়ে এদেশে বসবাস করার অনুরোধ জানান।
গ্রীসের শিক্ষা মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা থেমিস দিমিত্রাকোপুলোস ও ডিজিটাল ও টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা কারানাসিওস কোসতানটিনোস বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যৌথ উদ্যোগে কাজ করার অঙ্গিকার করেন।
শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মাননীয় অলটারনেট মিনিস্টার থেয়ানু ফতিউ সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। বাংলা নববর্ষে তিনি সুখ শান্তি সমৃদ্ধ কমনা করেন। ২০১৩ সালে নেয়া মানোলাদার গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশী শ্রমিকদের স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, ঐ সময়ে বাংলাদেশী শ্রমিকদের পাশে থেকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছি, এখনোও করছি ভবিষ্যতেও করে যাবো। ২০১৩ সালে বাংলাদেশীরা নেয় বিচার পায়নি ঐ ঘটনার জন্য আজও আমি নিন্দা জ্ঞাপন করছি একটু দেরি হলেও বাংলাদেশী শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য বিচার পেয়েছে।
IMG0
তিনি আরো বলেন, গ্রীসের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে আমরা যে সমস্যায় আছি সে সমস্যা অতি তারা তারি কেটে উঠতে পারবো। আজকের দিনের চাওয়া প্রতিটি সমস্যাই আমি সমাধানের চেষ্টা করবো। তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা করে দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন আজকের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। শ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় আমার সরকার এবং আমি সর্বদা কাজ করে যাবো এবং দু’দেশের সম্পর্ক জোরদারে উল্লেখ্য ভূমিকা রাখবো।
গ্রীসের প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উন্নয়নে বিশেষত তাদের কর্ম পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গ্রীক সরকারের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন । তিনি মানোলাদায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণে গ্রীক শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে একযোগে কাজ করার কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন। গ্রীসে প্রবাসী বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের জন্য একমাত্র বাংলা স্কুল, বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমী’র জন্য একটি স্থায়ী ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি দু’দেশের মধ্যে আরো সহযোগিতা বৃদ্ধির কথা বলেন। বাংলাদেশ দোয়েল সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বাংলাদেশ দোয়েল একাডেমী’র আয়োজিত বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রদূত উদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত গ্রীসের শ্রম ও সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক মাননীয় অলটারনেট মিনিস্টার থেয়ানু ফতিউ-কে বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতি সৌধের একটি রেপ্লিকা এবং একটি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশী জামদানি শাড়ি উপহার দেন। পরিশেষে দোয়েল একাডেমির শিশুরা গ্রীক এবং বাংলা গান,নাচ ও সুস্বাদু পিঠাসহ বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করে মন্ত্রী মহোদয়কে মুগ্ধ করেন।