শিমরাইল মোড়ের ফুটপাট আবারও হকারদের দখলে

‘সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে ম্যানেজ করে ফেলেছে আমাদের কাউন্সিলররা। এখন ভাড়া (চাঁদা) দুই শত টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে। দৈনিক ৫শ টাকা টাকা ভাড়া (চাঁদা) দিলে ফুটপাটে বসতে দেওয়া হবে। অন্যথায় এখানে বসতে দেওয়া হবে না।’ এভাবেই আমির হোসেন নামে এক হকারকে বলছিলো চাঁদাবাজ ইয়াছিন। ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে সরেজমিনে এ তথ্য পাওয়া যায়। 

স্থানীয়রা জানায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়ে ফুটপাট বসিয়ে এক সময় চাঁদাবাজি করতো সাতখুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন। সাত খুন ঘটনার পর নূর হোসেন কারাগারে থাকার কারণে অনেক দিন বন্ধ ছিল শিমরাইল মোড়ের চাঁদাবাজি। এরপর শিমরাইল মোড়ে ফুটপাতের ওপর নজর পড়ে নাসিকের কাউন্সিলর শাহজালাল বাদল ও কাউন্সিলর ওমর ফারুকের।

তারা এখন শিমরাইল রেন্টকার স্ট্যান্ড থেকে শুরু করে হাজী আহসান উল্ল্যাহ মার্কেট ইউটার্ন পর্যন্ত ৩ শতাধিক দোকান বসিয়ে দৈনিক লাখ টাকা চাঁদাবাজি করে আসছে। গত ১ জানুয়ারি সওজের এস্টেট ও আইন কর্মকর্তা (উপ সচিব) মোঃ মাহবুবুর রহমান ফারুকীর নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের শিমরাইল মোড়কে মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ মীর শাহিন শাহ পারভেজ শিমরাইল মোড়ে ফুটপাট বসতে দেয়নি। এ সময় ফুটপাট বসলেও পুলিশ দিয়ে হকারদের তুলে দেওয়া হতো। 

৩১ মার্চ থেকে সমঝোতা করে আবারও মহাড়কের ওপর ফুটপাতে দোকান বসিয়ে দিয়েছে চাঁদাবাজরা। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার  অফিসার্স ইনচার্জ মীর শাহিন শাহ পারভেজ মোটা অংকের টাকায় সমঝোতা করায় অন্য দিনের মতো হকারদের বসতে আর বাধাও দিচ্ছে না পুলিশ। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। 

আরও পড়ুনঃ খুলনায় অস্ত্র, গুলি ও ফেনসিডিলসহ মা-ছেলে এবং ব্যবসায়ী গ্রেফতার

এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার  অফিসার্স ইনচার্জ মীর শাহিন শাহ পারভেজ বলেন, ‘মহাসড়কের পাশে কোন ফুটপাট বসতে দেওয়া হবে না। আর কারো কোন সমঝোতা করার তো প্রশ্নই আসে না।’


ইত্তেফাক/নূহু