নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় ঘোষপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোহন ঘোষের আড়াই বছরের শিশুকন্যা দৃষ্টি ঘোষের লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় প্রতিবেশি প্রদীপ সরকারের শয়নকক্ষ থেকে গতকাল শনিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
দৃষ্টি গত শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির পাশ থেকে হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুর পিতা মোহন ঘোষ বাদী হয়ে প্রদীপ সরকার (৪০) ও তার স্ত্রী রীতা রানীকে (৩৫) অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রদীপের ছেলে হৃদয় ও ব্রজ দাস নামে একজনকে আটক করেছে। গতকাল বিকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে মোহন ঘোষের মেয়ে দৃষ্টি বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন বিকালে প্রতিবেশী প্রদীপের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে খেলা করছিল সে। খেলার একপর্যায়ে ওই শিশু অভিযুক্তের বাড়িতে গেলে সেখান থেকে আর ফেরেনি। খোঁজাখুজির পর মোহন থানায় জিডি করেন। এরপর পুলিশ শিশুটি উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকে শুক্রবার রাতভর বাদী মোহনের প্রতিবেশীদের বাড়ি তল্লাশি করা হয়। পরে অভিযুক্তের ছেলে হৃদয়ের তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল পুলিশ অভিযুক্ত প্রদীপের বাড়িতে তল্লাশি চালায়।
একপর্যায়ে প্রদীপের শয়ন ঘরের ঘাটের নিচের ট্রাংকের ভিতরে ওই শিশুর বস্তাবন্দি লাশ পাওয়া যায়। হত্যার কারণ জানা যায়নি। কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তা পোষ্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।
গুরুদাসপুর থানার ওসি দিলীপ কুমার দাস জানান, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত শিশুর পিতা মোহন ঘোষ ও তার স্ত্রী লক্ষী রানী বলেন, প্রতিবেশি রংমিস্ত্রী প্রদীপের সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ ছিল না। মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
অভিযুক্ত রীতা রানী বলেন, শুক্রবার বিকালে তাদের ঘরের খাটের ওপর তার ছেলে সন্দীপের সঙ্গে খেলা করছিল দৃষ্টি। একপর্যায়ে দৃষ্টি খাট থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় তিনি রান্না ঘরে ছিলেন। তিনি এসে দেখেন দৃষ্টি কথা বলছে না। পরে বুঝতে পারেন মেয়েটি মারা গেছে। এরপর তিনি ভয়ে শিশুর লাশ একটি বস্তায় ভরে খাটের নিচে ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।
ইত্তেফাক/নূহু