কুমিল্লা আদালতে স্থানাভাবে নষ্ট হচ্ছে মামলার শত শত নথি!

কুমিল্লা যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বিনষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি ও দলিলপত্র। ওই আদালতের সেরেস্তার পরিধি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় শত শত নথি মেঝেতে রাখায় ক্রমে নষ্ট হচ্ছে। নথিপত্র সুষ্ঠুভাবে সংরক্ষণের প্রয়োজনে সেরেস্তার পরিধি বর্ধিতকরণের জন্য ওই আদালতের বিচারক কর্তৃক বিগত সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের সেরেস্তার পরিধি প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল হওয়ায় ওই আদালতের সেরেস্তাদার, সেরেস্তা সহকারী ও অফিস সহায়কগণের চেয়ার-টেবিলে বসে কাজকর্ম করার ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলার নথি সংরক্ষণের জন্য আলমারি রাখাও সম্ভবপর হচ্ছে না বিধায় শত শত নথি মেঝেতে রাখায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেরেস্তাদারের ছোট পরিসরের কক্ষটিতে আলমারি ও নথি রাখতে না পারায় বাথরুমে স্তূপীকৃত অবস্থায় ফ্লোরে (মেঝে) নথিগুলো রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্ষটির মেঝেতে অনেক নথি জমা থাকায় স্তূপীকৃত নথির মধ্যে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিকমত বসতে পারছেন না। ওই আদালতের সেরেস্তা সংলগ্ন পরিত্যক্ত ৩টি প্রস্রাবখানা ও ওজুখানা সংস্কার করে নথি সংরক্ষণের জন্য আলমারি রাখার ব্যবস্থা করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হবে।

সূত্র জানায়, সেরেস্তার কক্ষটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বর্ধিতকরণের জন্য যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোহাম্মদ ফারুক গত বছরের ২০ জুন গণপূর্ত বিভাগ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট পত্র প্রেরণ করলেও কোনো কাজ হয়নি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে ওই আদালতের বিচারক কর্তৃক স্বাক্ষরিত আরো একটি পত্র চলতি বছরের গত ১০ জানুয়ারি গণপূর্ত বিভাগ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট প্রেরণ করা হয়।

এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ-কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা জানান, যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের সেরেস্তার কক্ষটি সংস্কার ও বর্ধিতকরণের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। বিষয়টি অতীব গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অর্থ বরাদ্দ পাওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজটি সম্পন্ন করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু