নতুন এডিপির আকার ছাড়াবে ১ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা

 
আসছে নতুন অর্থবছরে মেগা প্রকল্পগুলো দৃশ্যমান হওয়া শুরু করবে। এ জন্য জাতীয় অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রেখে নতুন এডিপির আকার চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ৬৪ হাজার ৩১ কোটি টাকার এডিপি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বাইরে বিদেশি উত্স থেকে সংগ্রহ করার লক্ষ্য থাকছে ৫৭ হাজার কোটি টাকা। তবে এডিপির আকার চূড়ান্ত হবে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায়। সভায় জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধিও হতে পারে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শুরুতে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সংশোধন করে এডিপির আকার ১ লাখ ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এ হিসেবে আগামী বাজেটে এডিপিতে বরাদ্দ বাড়ছে প্রায় ৪৪ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এডিপির আকার বাড়ছে প্রায় ৩৭ শতাংশ।
 
জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার ফাস্ট ট্র্যাকের আওতায় নেওয়া ১১ প্রকল্প সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে প্রক্রিয়াধীন বাজেটে। এর মধ্যে চলমান আট প্রকল্পে ৩৩ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এ সব প্রকল্পে চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে ২৪ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সব প্রকল্পের কাজ গুছিয়ে আনতে বড় বরাদ্দ চাওয়া হয়। অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বাজেটে দেশে এ যাবত্কালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকায় চলমান এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হবে ১১ হাজার ২৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে ৬ হাজার ৫৩২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। আগামী বছরের এপ্রিল মাসে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপকরণ আসা শুরু হবে।
 
অন্যদিকে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরে চলমান পদ্মা সেতু প্রকল্পে মার্চ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আগামী অর্থবছর এতে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা। ফাস্ট ট্রাকের মধ্যে দৃশ্যমান সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে এ প্রকল্পে। অন্যদিকে ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ের পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর এ কাজে ৪ হাজার ১০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে মাত্র চার কোটি টাকা। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা চলমান মেট্রো রেল প্রকল্পে মোট খরচ হয়েছে ৭৬০ কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তিন হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এছাড়া আসছে অর্থবছরে মাতারবাড়ী কয়লাভত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে এক হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। রামপাল বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ হাজার ৪০২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দরে থাকছে ৬শ’ কোটি টাকা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০১ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ৩ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/কেকে