গত ৩১ শে মার্চ ২০১৯ মহাআড়ম্বরে আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওফেলিতে নতুন কমিটি গঠনসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরান তেলোয়াত, গীতা পাঠ ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সকল অগ্নিকাণ্ড ,সন্ত্রাসসহ ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল বিজয়ী শহীদ, স্বাধীনতার জন্য সম্ভ্রম হারানো মা বোনদের ও বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার মৃতদের আত্মার শান্তির জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন ও জাতীয় সংগীতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।
গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও জাতীয় চার নেতাকে, যাদের ছাড়া স্বাধীনতা শব্দটি অসম্পূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি দ্বৈতভাবে উপস্থাপনা করতে গিয়ে ডাবলিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অলক সরকার ও কাউন্টি ওফেলি আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উম্মে ফারিয়াহ তামান্না বলেন, প্রবাসে একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী নানাভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও বিতর্কিত তথ্য উপাত্ত দ্বারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে, এরকম অবস্থায় সকল প্রগতিশীল মানুষের দায়িত্ত্ব এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার।
এরপর, অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অফালীর টোলামোরে বসবাসরত শিশু কিশোরদের আয়োজনে "যেমন খুশি তেমন সাজো" এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রদর্শন করা হয় । উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছে আফিয়া জামান, দিব্য কর্মকার, রোদেলা গ্রেগরি, জয়িতা কর্মকার, মাদিহা রশিদ, ইফাজ জামানসহ আর অনেকেই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব কিবরিয়া হায়দার বলেন, পরবর্তী প্রজন্মকে সঠিকভাবে ইতিহাস চর্চা করতে হবে। তাদের জানতে হবে কোনো এক নাম না জানা মেজরের একবার স্বাধীনতা ঘোষণা পত্র পাঠেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যায়নি। দীর্ঘ কয়েকযুগ আন্দোলনের সফলতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা, জনমানুষের নেতা আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব বেলাল হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, সঠিক নেতৃত্ব, জনগণের বিশ্বাসও ভালোবাসা এবং নীতি ছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতা পাওয়া কঠিন হতো। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এই তিন ক্ষেত্রেই তার চরিত্রের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন। অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু তনয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পিতার দৃঢ়তা ও নীতিকে সম্বল করে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমাদের কাজ দলীয়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে নেত্রীকে সহায়তা করা ও দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করা।
আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক ও আয়ারল্যান্ডের জনপ্রিয় নেতা রফিক খান বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, হানাহানি, নীতিহীন রাজনীতি ও ষড়যন্ত্র কখনোই দল, দেশ বা জনসাধারণের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। বঙ্গবন্ধু যা রাজনীতি করতে গিয়ে অনুধাবন করে গেছেন অনেক আগে তা আমাদের বুঝতে কেন এতো সমস্যা হবে। তিনি সকল রাজনীতিবিদকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শন অনুসরণ করার জন্য আহ্বান জানান।
ওফেলি আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান শুভ্র তার গুরুত্ত্বপূর্ণ বক্তব্যে দাবী করেন, আমরা বাঙ্গালীরা ১৭৫৭ সালের আম্রকাননের যুদ্ধে সিরাজদৌল্লাহর পরাজয়ে আমাদের স্বাধীনতা হারায়নি। কারণ, নবাব সিরাজদৌল্লাহ বাঙালী ছিলেন না। আমরা স্বাধীনতা হারিয়েছি ১২০৩ সালে ভিনদেশী আক্রমণকারী বর্বর ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির বাংলা আক্রমণের মাধ্যমে। সেই সময় বখতিয়ার খিলজী বাংলা আক্রমণ করেই খ্যান্ত হননি, তিনি সেই সাথে পুড়িয়েছেন বাংলার প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়কেও, বাংলার শিক্ষা দীক্ষাকেও। দীর্ঘ ৭০০/৮০০ বছর পরে আমাদের স্বাধীনতা পুনরোদ্ধার হয় বাঙালী নেতা দেশপ্রেমিক বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমে। তাই তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ওফেলি আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মামুনুর রশীদ, ডাবলিন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ হোসেন, কর্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়জুল্লাহ শিকদার, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বদরুল ইসলাম, শামসুজ্জামান জুয়েল, সুমি আক্তারসহ অন্যান্যরা। বক্তারা সবাই আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সকল প্রকার ষড়যন্ত্রকে রুখে দেয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে বিপুল করতালির মাধ্যমে ও কয়েকজনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওফেলি আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনিরুজ্জানামন শুভ্র নির্বাচিত হন।
কাউন্টি ওফেলি আওয়ামী লীগের নব নির্বাচিত সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক অনুষ্ঠানে আগত সকলকেই ধন্যবাদ জানান। তারা ধন্যবাদ জানান ক্যালিফোর্নিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনামুল হককে।
উপরোক্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, আহ্বায়ক কমিটির দেবেশ কর্মকার, জহুরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, শিল্পী কর্মকার, মনোজ শর্মা, মাহবুবা পারভিন, মাহবুবুর রহমান, ফ্লোরা গ্রেগরি, মাহফুজুর রহমান, ডেনিয়াল গ্রেগরি, মনি শর্মা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, জয়িতা কর্মকার।
ডাবলিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক রুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক সমীর কুমার ধর, দপ্তর সম্পাদক সফিকুল ইসলা, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শিশির ইসলাম।
কর্ক থেকে সেলিম খাকী, গলওয়ে থেকে আগত ছোটনসহ আরো অনেকেই।
ইত্তেফাক/আরকেজি