যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুটেস রাজ্যের বোস্টনে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যপী বাংলাদেশের উন্নয়ন শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী দিনে বক্তারা বলেছেন, ‘নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’
বাংলাদেশের সাফল্য, সামর্থ্য এবং সম্ভাবনা সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষে গত চয় বছর ধরে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড হেল্্থ। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ নিয়ে গবেষকেরা এই সেমিনারে অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম এবং এসডিজি সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধান সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ উদ্বোধনী এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন, জীবনমানের উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক স্থিতি অটুট রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অবিস্মরণীয় অগ্রগতি সাধন করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে গোটা জাতির উন্নয়ন কর্মকান্ডে অন্তর্ভুক্তির ঘটনা আজ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
গার্মেন্ট সেক্টরের শ্রমিক সমস্যা নিয়ে কোন কোন মহলের ভ্রান্তি দূর করার লক্ষ্যে মশিউর রহমান বলেন, গত ৮ বছরে নানান প্রতিকূলতা সত্বেও ন্যূনতম মজুরি বেড়েছে কমপক্ষে তিনবার। বাজার দরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির এমন নজির উন্নয়নশীল বিশ্বে খুব কমই দেখা যায়। তিনি বলেন, গার্মেন্ট শিল্পের কর্ম-পরিবেশ নিরাপদ রাখতেও সরকার বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সম্মেলন প্রসঙ্গে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য’ তথা এসডিজি সম্পর্কিত প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সমন্বয়কারি আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, ‘২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কীভাবে এগোতে পারে, সেসব নিয়েই বৃদ্ধিবৃত্তিক মতবিনিময় করা হবে এই সম্মেলনে। এসডিজি অর্জনের গতি কীভাবে ত্বরান্বিত হবে, কোন মন্ত্রণালয়ের কী কাজ-তা নির্ণয় করা হচ্ছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এমডিজির মত এসডিজি সীমিত কোন বিষয় নয়। এর ব্যাপকতা অপরিসীম। এমডিজিতে দারিদ্র হ্রাসের লক্ষ্য ছিল, এসডিজিতে দারিদ্র বিমোচনের কথা বলা হয়েছে। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন তথা মানবসম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রসঙ্গ রয়েছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করবেন এবং বাংলাদেশে আমরা কীভাবে এগোচ্ছি-তা নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হবে। এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন-পরিক্রমায় অপরিসীম ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন আবুল কালাম আজাদ।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল ইউসুফ বলেন, উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সেই গতি ত্বরান্বিত করতে সর্বমহলের সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। সে তাড়না থেকেই আমরা বাংলাদেশ নিয়ে কর্মরত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি, কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের জড়ো করেছি এই সম্মেলনে।
তিনি জানান, সম্মেলনে আলোচ্যসূচিতে রয়েছে, এসডিজি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও শ্রমিকের মর্যাদার প্রশ্নে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ, উদ্যোক্তা সম্ভাবনা এবং সমস্যা, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপে সমস্যা ও সম্ভাবনা, এসডিজি অর্জনে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ, সহজসাধ্যও বিশুদ্ধ জ্বালানী : সমস্যা, সম্ভাবনা এবং অর্জন, বাণিজ্য এবং শিল্পে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আইসিটি এবং তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের গতিধারা ইত্যাদি।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য শানারা রহমান, ডেনি চৌধুরী, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত বিশ্বাসসহ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি এই সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এএম।