গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কথা শুনছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই শুনানির মাধ্যমে উঠে আসছে দেশের ৩০০ আসনের সার্বিক চিত্র। গণভবনের ব্যাংকোয়েট হলে গত তিন দিনে সরাসরি ২শ’ মনোনয়ন প্রত্যাশীর মতামত শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। দলীয় প্রধানকে কাছে পেয়ে কেউ শুনিয়েছেন রাজনীতি করতে গিয়ে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা। কেউবা জানালেন দলে নিজের অবদানের কথা। অনেকেই নিজের জীবন বৃত্তান্ত, দলে ভূমিকার নানা তথ্য-প্রমাণের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেন। তাদের কথা শুনে শেখ হাসিনা কাউকে কঠিন, কাউকে কোমল ভাষায় দলীয় অবস্থান বুঝিয়েছেন। একই সঙ্গে জোট মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার অঙ্গিকার করিয়ে নিয়েছেন। আবার ক্ষমতায় এলে সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এবার তিনশ’ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আবেদনপত্র ক্রয় করেছেন ৪ হাজার ২৩ জন। অর্থাত্ গড়ে প্রতিটি আসনে মনোনয়ন চান ১৩ দশমিক ৪১ জন। মনোনয়ন প্রত্যাশী সবার সঙ্গে একত্রে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত্কার হয়ে গেছে ১৪ নভেম্বর। এখন শেষ মুহূর্তে এসে প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে তদবির-দৌড়ঝাঁপে ব্যস্ত হয়েছেন তারা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে এক সপ্তাহ ধরে নানামুখী অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন বিপুল সংখ্যক মনোনয়ন প্রত্যাশী। ফলে তাঁদের কথা সরাসরি যাতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শুনতে পারেন, সে উদ্যোগ নেওয়া হয়। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কেউ কেউ কথা বলার সময় কেঁদে ফেলেন। কেউ কেউ মনোনয়নের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছেন। গত তিন দিনে সব সাত শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী গণভবনে গেছেন। তবে তাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছেন ২শ’ জন। যেসব আসনে সন্দেহ হয়েছে সেখানে শেখ হাসিনা নিজেই সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ডেকেছেন।
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হলেও সর্বশেষ শুনানিতে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে শেষ মুহূর্তে কিছু নাম যোগ-বিয়োগ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, নেত্রীর সামনে নিজেকে অথবা পক্ষের প্রার্থীকে যোগ্য প্রমাণের লড়াইও চলছে। গতকাল নড়াইলের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তিকে মনোনয়ন না দিতে স্থানীয় একজন নেতা বক্তব্য রাখেন। তবে অন্য একজন নেতা মুক্তির পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বিরুদ্ধেও বক্তব্য রাখেন একজন নেতা। নেত্রকোনার একজন এমপির অনুসারীরা একজন কেন্দ্রীয় নেতার বিপক্ষে বলেন। আবার ওই কেন্দ্রীয় নেতার অনুসারীরা এমপির বিরুদ্ধে বলেন। এছাড়া খুলনা, পাবনা, বরিশাল, বরগুনা, নরসিংদী ও ঢাকার একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী তাঁদের বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ তুলে ধরেন। দলের নেতাদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করায় শেখ হাসিনা বিরক্তি প্রকাশ করেন। এ সময় শেখ হাসিনা সবাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, এবার একাধিক জরিপের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। যোগ্যতা থকালেও সবাইকে মনোনয়ন দেওয়া তো সম্ভব নয়। একটি আসনে একজনই মনোনয়ন পাবেন । যাকে মনোয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষে সবাইকে থাকতে হবে।