লিভারের অসুখে আক্রান্ত রোগীদের রোজা রাখার নিয়ম নির্ভর করবে তিনি কি ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত আছেন তার ওপর। জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীর জন্ডিসের অন্যতম কারণ ভাইরাল হেপাটাইটিস। শুষ্ক মৌসুমে কিংবা বন্যা পরবর্তী মৌসুমে আমাদের দেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ঘটে। ভাইরাল হেপাটাইটিস আক্রান্ত রোগীর ক্ষুধামন্দা হয়, বমি কিংবা বমি বমি ভাব থাকে, শরীরে অস্বস্তি অনুভব হতে থাকে, শরীর নিস্তেজ মনে হয়। এ উপসর্গগুলো তীব্র হলে ও জন্ডিসের মাত্রা বেশি হলে রোগীকে শিরার মাধ্যমে সেলাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। শরীর দুর্বল থাকে তাই এ অবস্থায় রোজা রাখা বাঞ্ছনীয় নয়। সুস্থ হলে পরবর্তী সময়ে ফরজ রোজা আদায় করে নেওয়া যাবে।
বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। সিরোসিস রোগী দুইভাবে উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়। প্রথমত খাওয়ার প্রতি অনীহা, পেটের পীড়া, আমাশয় অথবা ডায়রিয়া নিয়ে আসতে পারে। এই সময় রোগের উপসর্গের মাত্রা যদি কম থাকে সাধ্যমত খেতে পারে এবং খাওয়া হজম হয় তাহলে ফরজ রোজা রাখার চেষ্টা করা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে পেটে ও পায়ে পানি জমে। এ সময় রোগীর পানি কমার ওষুধ খেতে হয়। ফলে, পানির পিপাসা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাছাড়া রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ অবস্থায় রোজা রাখলে জীবনের জন্য ঝুঁকি হতে পারে। ফলে এ সময় রোজা না রাখলেও চলবে, কিন্তু শরিয়ত মোতাবেক তাদেরকে রোজার কাফ্ফারা দিতে হবে। তাদের রোজা রাখার মত শরীরের অবস্থা থাকে না।
লিভারের অ্যাডভান্স ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর পক্ষে রমজানের ফরজ রোজা আদায় করা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ তিনি তখন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ব্যথা বেদনায় ক্লান্ত পরিশ্রান্ত এবং খাওয়ায় অরুচির কারণে ক্ষুধার্ত ও দুর্বল অবস্থায় থাকেন। আত্মীয়রা তার পক্ষে থেকে তার রোজার কাফ্ফারা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পেপটিক আলসার হলে পেটের উপরিভাগে জ্বালা বোধ হয়, বুক জ্বলে এবং টক ঢেকুর আসে। এমনকি শেষ রাতে পেটের ব্যথায় ঘুম ভেঙে যেতে পারে। এইচ টু রিসেপটর ব্লকার অথবা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ খেলে যদি ব্যথা সেরে যায় এবং কোনো শারীরিক সমস্যা অনুভব না হয়, তাহলে রোগী ইফতার ও সেহরীর সময় এ জাতীয় ওষুধ সেবন করে রোজাগুলো পূরণ করতে পারবেন। কিন্তু যদি উপসর্গ উপশম না হয় এবং জীবনে কোনো না কোনো সময়ে রক্ত বমি কিংবা কালো পায়খানা হয়ে থাকে তাহলে রোজা রাখার আগে তাদেরকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক: প্রখ্যাত লিভার বিশেষজ্ঞ