বিনিয়োগ প্রস্তাবের ৩৫ ভাগ বাস্তবায়ন হচ্ছে না

 
বাংলাদেশে যে পরিমাণ বিনিয়োগ প্রস্তাব আসছে তার ৬৫ শতাংশের মতো বাস্তবায়ন হচ্ছে অথবা বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে। বাকি ৩৫ ভাগ প্রকৃত অর্থে বিনিয়োগ হচ্ছে না। বিনিয়োগ বোর্ড বিলুপ্ত হবার পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নত কর্তৃপক্ষ (বিডা) বিনিয়োগ নিবন্ধন করে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক মূলধনী যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল আমদানির পরিসংখ্যান তৈরি করে থাকে। প্রস্তাবিত বিনিয়োগ এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির তথ্যের মাধ্যমে এ বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যে পরিমাণ বিনিয়োগ আসছে তার বেশির ভাগ হচ্ছে পুনঃবিনিয়োগ। অন্যদিকে উত্পাদনশীল খাতের তুলনায় সেবা খাতে বিনিয়োগ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।
 
বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরুর প্রাথমিক ধাপ হলো বিনিয়োগ নিবন্ধন, যা পরবর্তীকালে প্রকল্প সংক্রান্ত সার্বিক সম্ভাব্যতা যাচাই সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করা হয়। বিডা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৭টি প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছে এবং মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ৪৪ হাজার ৮১৬ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে অর্থাত্ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ মাস পর্যন্ত নিবন্ধিত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪৬টি এবং একই সময় পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫৬ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা।
 
অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৫৮ কোটি ১০ লাখ ডলার মূল্যমানের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়েছে। বিগত অর্থবছরের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ২০৮ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার।
 
বিগত বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে গড়ে দুই বিলিয়ন ডলারের উপর প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে যার অর্ধেকের বেশি এসেছে পুনঃবিনিয়োগ। ২০১৫ সালে ২৩২ কোটি ডলারের এফডিআই এর মধ্যে ১১৪ কোটি ডলার ছিল পুনঃবিনিয়োগ এবং ২০১৬ সালে ২৩৩ কোটি ডলারের মধ্যে ১২১ কোটি ডলার ছিল পুনঃবিনিয়োগ।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিডার নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মণ্ডল ইত্তেফাককে বলেন, কিছু বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নে অনেক সময় প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট সময়ে প্রথম পরীক্ষামূলক উত্পাদনে যায় যা পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গভাবে বিনিয়োগ করে থাকে। যেমন ২০১৬ সালে প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে অনেক সময় প্রয়োজন।
 
বিডার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) মোট নিবন্ধিত স্থানীয় বিনিয়োগ ৬১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। বিনিয়োগের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ হাজার ৬৭৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা বেশি।
 
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, আট মাসে কেমিক্যাল শিল্প খাতের প্রকল্প নিবন্ধনের হার সর্বোচ্চ (২৪.২৯%)। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য খাতগুলো হলো প্রকৌশল (১৬.২১%), সেবা (১৫.৬১%) ও বস্ত্র শিল্প (১৩.১৯%)। অর্থবছরের আট মাসে যে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০৯ জন লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে বিডা উল্লেখ করেছে।
 
ইপিজেডে বিনিয়োগ পরিস্থিতি:
 
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) হলো চট্টগ্রাম, ঢাকা, মংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, উত্তরা (নীলফামারী), আদমজী ও কর্ণফুলী। এই আটটি ইপিজেডে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫৮৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে শিল্প স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৫৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বর্তমানে উত্পাদনরত এবং অবশিষ্ট ১২৮টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি,২০১৭ পর্যন্ত ইপিজেডসমূহে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৪২১ কোটি ৫৭ লাখ ডলার।
 
অন্যদিকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইপিজেডসমূহে ক্রমপুঞ্জিভূত রপ্তানির পরিমাণ ৫ হাজার ৭০৪ কোটি ডলার।
 
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ইপিজেডসমূহে মোট রপ্তানি হয়েছে ৪২২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার। অথচ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৩৭৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।
 
ইপিজেডের শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে আট মাসে মোট ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৪৮ জন বাংলাদেশির প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে, এর মধ্যে ৬৪ শতাংশই নারী বলে জানা গেছে।
 
ইত্তেফাক/কেকে