সিংগাইরে সরকারি অফিসে হাজিরায় অনিয়ম!

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের অনেকেই নিয়মিত অফিস করেন না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অফিস ফাঁকির অভিযোগে গত বছর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাসহ পরিষদের ১৩ কর্মকর্তাকে বদলির তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। ঐ সময় ৬ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলিও করা হয়েছিল। বাকিরা অফিস ফাঁকির দায় এড়াতে মমতাজ বেগম এমপিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছিলেন। তখন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের প্রেক্ষিতে কর্মকর্তাদের অফিস ফাঁকির সত্যতা মেলে। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছিল, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লা সপ্তাহে মাত্র একদিন অফিস করেন। সে সময় উপজেলার ১২ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করে তালিকা তৈরি করা হয়। তখন পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মেহেদী আক্তার, সাব রেজিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান, হিসাব রক্ষণ অফিসার মত্স্য সম্প্রসারণ বিভাগের অর্পনা বর্মন, তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি সহকারী প্রোগ্রামার শাকিল আহমেদকে অন্যত্র বদলি করা হয়। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লা, সমবায় কর্মকর্তা আখিনুর ইয়াসমিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান মণ্ডল, পিআইও মো: শফিকুল ইসলাম ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহমুবুল ইসলাম মমতাজ বেগম এমপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অফিস ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেন। বর্তমানে বহাল তবিয়তে থাকার সুবাদে তারা আবারো অফিস ফাঁকির কাজে লিপ্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকা এবং সাভার থেকে এসে এসব কর্মকর্তা অফিস করেন। ঢাকার পাশে হওয়াতে লবিং করেই তারা এখানে পোস্টিং নেন। যোগদান করেই আরাম আয়েশ করার জন্য অফিস ফাঁকিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলাবাসী। অপরদিকে কর্মস্থলে অবস্থান না করায় কর্মকর্তাদের সরকারি কোয়ার্টারগুলোতে বিভিন্ন নামে থাকেন অন্যরা। কোয়ার্টার সংস্কারের জন্য বরাদ্দও আসে। অভিযোগ রয়েছে, সংস্কার কাজে লুটপাট হয় বলে কাজ হয় নিম্নমানের। পরিষদের পুকুরের মাছগুলো লুটপাট করে খাচ্ছে কেউ কেউ। এছাড়া চারপাশে সন্ধ্যায় বসে মাদকের আড্ডা। জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরদারি নেই বলে কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিস করেন না। সে কারণেই এসব অনিয়ম হচ্ছে। জানতে চাইলে কর্মচারীরা বলেন, স্যার অফিসের কাজে বাইরে গেছেন কিংবা ঢাকায় মিটিং করছেন।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিসে থাকার বিধান থাকলেও অধিকাংশ কর্মকর্তা অফিসে আসেন সকাল ১০/১১টায় । আর দায়সারা সেবা দিয়ে দুপুর ২টা/৩টার মধ্যে দ্রুত কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেলা রহমত উল্লার মতামত জানতে গত সোমবার তার অফিস কক্ষে ঢোকার আগেই পিয়নরা বলেন, কাউকে ঢুকতে ম্যাডাম বারণ করেছেন। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেও অনুমতি না পেয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনের তাগিদে এসময় আরো অনেককেই দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, সদ্য যোগদানকারী ইউএনও’র আচরণে আমরাও অসন্তুষ্ট। ইউএনও অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সিংগাইরবাসী।