বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপিকে ঠেকাতে এখন পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনার একজোট হয়ে গেছে। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বক্তব্য দলবাজদের আবারও উত্সাহী করে তুলবে। গতকাল শুক্রবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সিইসি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় বলেছেন কোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হবে না। বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে বিতর্কিতদের সরানোর আহ্বানের বিপরীতে সিইসির এ ধরনের বক্তব্য দলবাজ কর্মকর্তাদের আরো বেপরোয়া করে তুলবে। এর আগে পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর গায়েবি মামলা দেওয়া হবে না, অথচ এখন অব্যাহতভাবে গায়েবি মামলা করা হচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তাই অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে হলে সমতল মাঠ তৈরি করতে হবে, বিতর্কিত ও দলবাজ পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রশাসন সাজাতে হবে। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু না হলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় এলাকায় মাইকিং করে মাঠে ময়দানে সভা-সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জে শামীম ওসমান বিশাল প্রচারণা সভা করেছে, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নাজমুল হাসান পাপনের পক্ষে মাইকিং চলছে। এছাড়া সকল জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মিছিল করে, সমাবেশ করে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছে। অথচ বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের এলাকায় যেতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ ও সরকারি দলের দুর্বৃত্তরা। ঘরোয়া বৈঠকও করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রিজভী বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। সরকার বিরোধীদের প্রতি তাদের এত সতর্ক নজর রাখতে হবে কেন? বিএনপির নেতাকর্মীরা কোথাও একত্র হলেই সেটা পুলিশের কাছে হয়ে যাচ্ছে ‘নাশকতার পরিকল্পনা’! তারা ভুলে যাচ্ছে যে রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে জনগণ ও নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের লাশ নদীতে ভেসে উঠছে, মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে, রিমান্ডে পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। রিজভী বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকার সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করছে। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে শুধু নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য।