ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের জামাত শুরু হবে সকাল ১০টায়। এ বছর এই ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে ১৯০তম জামাত।
রেওয়াজ অনুযায়ী নামাজ শুরুর পাঁচ মিনিট আগে ৩টি, তিন মিনিট আগে ২টি ও এক মিনিট আগে ১টি বন্দুকের গুলি ছুঁড়ে সমবেত মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতির জন্য সংকেত দেয়া হবে। এ বছর জামাতে ইমামতি করবেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ।
দেশের সর্ববৃহৎ ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয় শোলাকিয়া ঈদগাহে। গত বছরের এই দিনে নামাজ শুরুর ঘণ্টাখানেক আগে ঈদগাহ থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় কর্তব্য পালনরত দুই পুলিশ কনস্টেবল ঘটনাস্থলেই এবং পুলিশ-জঙ্গি গুলি বিনিময়ের সময় একজন গৃহবধূ ও এক জঙ্গি মারা যায়।
গত বছরের ঘটনাকে মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মাঠে এবং এর চারপাশে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে নিয়োজিত থাকবে র্যা ব-পুলিশসহসহ সহস্রাধিক নিরাপত্তা কর্মী। তা ছাড়া এই প্রথমবারের মতো নিয়োজিত থাকবে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য। মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ৮টি ওয়াচ টাওয়ার।
ঈদগাহমুখী সকল সড়কের প্রবেশমুখে এবং সারা মাঠ জুড়ে বসানো হয়েছে অসংখ্য সিসি ক্যামেরা। সকল মুসল্লির দেহ মেটাল ডিটেক্টর দ্বারা পরীক্ষা করার পর মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুসল্লিদের পাতলা জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো কিছু সঙ্গে আনতে নিষেধ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মুসল্লিদের পার্শ্ববর্তী আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে থাকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আজিমউদ্দিন বিশ্বাস জানান, মুসল্লিরা যাতে নির্ভয়ে নামাজ আদায় করতে পারেন, সে ব্যাপারে সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ১৯০তম জামাতের জন্য এখন সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।
ইত্তেফাক/ইউবি