ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান লিটন বাশারের মৃত্যু শোকের ছায়া

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, একটি স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক এবং ইত্তেফাকের বরিশাল অফিস প্রধান লিটন বাশারের (৪৩) মৃত্যুতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ শোক জানিয়েছেন।
 
লিটন বাশারের গভীর শোক এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার বর্গে প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি, বরিশাল সিটি করর্পোরেশন মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা বলরাম পোদ্দার, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুণ অর রশিদ, জাতীয় পার্টির (জেপি) বরিশাল মহানগর সভাপতি ডা. মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম চুন্নু প্রমুখ। 
 
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে লিটন বাশার বুকে ব্যাথা অনুভব করলে তাকে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানকার আইসিইউ বিভাগে নিয়ে ইসিজি করার পর হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লিটন বাশারকে হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই  মারা যান।
 
শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে লিটন বাশারের মরদেহ নগরীর গোড়া চাঁদ রোডস্থ ভাড়াকৃত বাসভবনে আনা হলে স্থানীয় সাংবাদিকরা শোকে ভেঙে পড়েন। তাৎক্ষণিক সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন বরিশাল সিটি করপোরেশন মেয়র মো. আহসান হাবিব কামাল, সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাড. গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক একেএম জাহাঙ্গীর, যুগ্ম সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ, বরিশাল প্রেসক্লাব সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেন, দৈনিক যুগান্তরের বরিশাল অফিস প্রধান আকতার ফারুক শাহীন, প্রথম আলোর বরিশাল অফিস প্রধান সাইফুর রহমান মিরন, সমকালের বরিশাল অফিস প্রধান পুলক চ্যাটার্জী, সময় টেলিভিশনের বরিশাল অফিস প্রধান ফিরদাউস সোহাগ, বরিশাল রিপোর্টাস ইউনিটির সম্পাদক কামরুল ইসলামসহ স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নেতারা।
 
বাদ জোহর বরিশাল সদর রোডস্থ বাইতুল মোকারম মসজিদের সামনে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বর্ষিয়ান সাংবাদিক মানবেন্দ্র বটব্যালসহ নেতারা লিটন বাশারের স্মৃতিচারণ করেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে ৪ দিনের শোক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে।
 
বরিশাল প্রেসক্লাবের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে চরমোনাইয়ের ডিঙ্গামানিকস্থ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাদ আসর গ্রামের বাড়িতে তার দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে বাদ মাগরিব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
 
দ্বিতীয় জানাজায় চরমোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসাহাক আবুল খায়ের, দৈনিক ইত্তেফাকের পিরোজপুর অফিস প্রধান নাসিম আলীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।  
 
সাংবাদিক লিটন বাশারের কর্মময় জীবনী :  লিটন বাশার এইচএসসিতে অধ্যায়রত অবস্থায় ১৯৯২ সালে স্থানীয় দৈনিক শাহনামা পত্রিকায় শিক্ষানবীশ রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালে স্থানীয় দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার পদে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে ওই পত্রিকার ভোলা জেলার ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক মানজমিন পত্রিকার ভোলা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০০ সালে জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার ভোলা জেলা প্রতিনিধি, ২০০১ সালে দৈনিক জনকন্ঠের ভোলা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
 
২০০২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাংলাবাজার পত্রিকার সটাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকের বরিশাল ব্যুরো অফিসের রিপোর্টার পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে পদোন্নতি পেয়ে ব্যুরো প্রধান হিসেবে আমৃত্যু কর্মরত ছিলেন।
 
লিটন বাশার এর বাইরেও স্থানীয় দৈনিক বরিশাল প্রতিদিন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক, স্থানীয় দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি স্থানীয় দৈনিক দখিনের মুখ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
 
 
 
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি