লাশও পেল না শেফ সাইফুলের পরিবার

 
পুলিশের কাছে দুই বার আবেদন করেও হলি আর্টিজানে নিহত শেফ (বাবুর্চি) সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের লাশ পরিবারের কাছে দেওয়া হয়নি। জুরাইন কবরস্থানে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম নিহত ৫ জঙ্গির সঙ্গে সাইফুলের লাশ দাফন করে দেয়।  লাশ দাফনের খবর যখন স্ত্রী সোনিয়া বেগমের কাছে পৌঁছে তখন তিনি ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ১৩ অক্টোবর তার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। নাম রাখা হয়েছে হাসান। জন্মের আগেই বাবাকে হারানোর দুঃখের কথা জানিয়ে সোনিয়া বলেন, এখন এসব কথা বলে কি লাভ। কেউই আমাদের খোঁজ নেয় না।
 
গত ২০ সেপ্টেম্বর জুরাইন কবরস্থানে ৫ জঙ্গির সঙ্গে সাইফুলের লাশ দাফনের খবর পেয়ে সোনিয়া বেগম বলেছিলেন, আগস্টের শেষ সপ্তাহে তিনি ঢাকায় মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। ঐ সময় পরিদর্শক হুমায়ন কবীর তাকে বলেছিলেন, ‘ভাবী আর যাই হোক, আপনার স্বামীর লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এটা নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না।’ এমন আশ্বাসের কয়েক দিন পর তিনি তার শাশুড়ি সম্মেহার বেগম টিপ সই দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা কার্যালয়ে পরিদর্শক হুমায়ন কবীরের কাছে ছেলের লাশ নেওয়ার জন্য একটি আবেদন করেছিলেন। শেষকালে স্বামীর লাশও পেলাম না, একজন জঙ্গির স্ত্রী হিসেবে আমাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
 
শরীয়তপুরের নড়িয়া থানার কোলকাঠি গ্রামে স্বামীর বসতভিটায় সোনিয়া বেগম ও তার তিন সন্তান সামিয়া (৯) ও ইমলি (৯) ও হাসানকে (৯ মাস) নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
 
গতকাল সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের ভায়রা কবীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা আশায় ছিলাম যে লাশ দিয়ে দিবে। কিন্তু লাশ তো পেলাম না উল্টো সাইফুলকে জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। সাইফুলের বড় মেয়ে সামিয়া স্থানীয় স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে ইমলি মা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
 
ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সঙ্গে সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো তদন্তে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে তার সম্পৃক্ততা নেই এ কথা বলা যাবে না, আবার সম্পৃক্ত ছিলেন সেটিও নির্ধারণ হয়নি।
 
ইত্তেফাক/কেকে