চিলি অধিনায়ক ক্লদিও ব্র্যাভো আজ রবিবার রাতে জার্মানির বিরুদ্ধে কনফেডারেশন কাপ জিতে তার দেশকে অভূতপূর্ব সাফল্যে ভাসাতে চান। যদিও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে কাজটি সহজ নয়। এমনকি কোচ জোয়াকিম লো তার বিশ্বকাপ তারকাদের পরিবর্তে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে খেলতে আসার পরও।
দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়নরা ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার আগে কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জেতেনি। এর পরের বছর একই প্রতিযোগিতার শতবর্ষ আসরের ট্রফিও জেতে তারা। উভয় আসরেই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে এ সাফল্য উদযাপন করে লা রোজা নামে খ্যাত চিলি ফুটবল দল। এই আর্জেন্টিনাকে হারিয়েই বিশ্বকাপ জিতেছিল জার্মানি। কাজেই ব্র্যাভো স্বপ্ন দেখতেই পারেন।
তা ছাড়া রাশিয়ার কাজানে গত বুধবার সেমিফাইনালে চিলি যে ইউরোপিয় চ্যাম্পিয়ন পর্তুগালকে হারায়, তাতে ছিল গোলরক্ষক ব্র্যাভোর তিনটি পেনাল্টি শট রুখে দেওয়ার বীরত্ব।
মাত্র তিন বছরে সমানসংখ্যক বড় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চিলি সম্পর্কে ৩৪ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আমরা এমন একটা দেশ থেকে এসেছি, যারা এ ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত নয়। কাজেই ফুটবল খেলে আমাদের সুযোগ আছে দেশবাসীকে তাদের সমস্যা ভুলিয়ে সন্তুষ্ট করার। সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার এটি।’
কিন্তু প্রতিপক্ষ যে জার্মানি যারা চিলির বিরুদ্ধে শেষ চারটি লড়াইয়ে অপরাজিত ছিল। এর মধ্যে আছে তিনটি জয়। অপর খেলাটি শেষ হয় ড্রয়ে। চিলি একবারই কেবল জার্মানিকে হারাতে পেরেছিল। সেটি ছিল প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। তাও আবার খেলাটি হয়েছিল ১৯৬৮ সালে। তবে কোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলায় জার্মানিকে হারানোর রেকর্ড নেই চিলির।
জার্মান কোচ তার মূল দলের অনেক তারকাকে বিশ্রামে রেখে যাদের নিয়ে এসেছেন সেই মেধাবী তরুণদের দিয়েই ফাইনাল নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয় জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতায় ঘাটতি থাকলেও তারুণ্য নির্ভর দলটি রাশিয়ায় চার খেলায় ১১ গোল করেছে। এছাড়াও নিজেদের জালে কোনো বল যেতে দেয়নি তারা। এর মধ্যেই অধিনায়ক জুলিয়ান ড্রেক্সলার, জোসুয়া কিমিচ, টিমো ওয়ের্নার ও লিওন গোরেটজকার নৈপুণ্য সবার নজর কেড়েছে।
দলটির সেন্টার ব্যাক আন্তনিও রুডিগার বলেন, ‘আমরা একটা তরুণ দল হলেও অনেকেরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এই খেলোয়াড়রা প্রত্যেকেই নিজেদের ক্লাবের নিয়মিত একাদশে খেলে। তাই দলটি অনেক উঁচু মানের। আমি মনে করি সবাই হয়তো এতদূর আসবে ভাবেনি। তবে দলটির মান নিয়ে আমার বিশ্বাস ছিল সবসময়েই। সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
পরিসংখ্যানে দু’দল
জার্মানি ও চিলি এই প্রথম কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে। জার্মানির আগের সেরা অর্জন হলো ২০০৫ সালে তৃতীয় হওয়া। অপরদিকে ২০০১ সালে ফ্রান্সের সাফল্যের পর চিলি হলো প্রথম দল যারা আবির্ভাবেই ফাইনালে।
ফ্রান্স হলো কনফেডারেশন কাপ জয়ী সর্বশেষ ইউরোপীয় দল। ফরাসিরা ২০০৩ সালে এ সাফল্য দেখিয়েছিল। অপরদিকে জার্মানি জিতলে তারা হবে ফ্রান্স ও ডেনমার্কের পর টুর্নামেন্টটি জয়ী তৃতীয় ইউরোপীয় দল।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোই সবচেয়ে বেশিবার কনফেডারেশন কাপ জিতেছে। আগের নয়টি প্রতিযোগিতার পাঁচটিরই ট্রফি জিতেছে তারা। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা জিতেছে একবার। বাকি চারটিই জিতেছে ব্রাজিল। এর মধ্যে আছে বিগত তিনটি টুর্নামেন্ট (২০০৫, ২০০৯ ও ২০১৩)।
টিমো ওয়ের্নার এ টুর্নামেন্টে অন্য যে কারো চেয়ে বেশি সংখ্যক গোলে অবদান রাখেন। তার গোল তিনটি, সহযোগিতা একটিতে। গোরেটজকা হলেন তিন গোলের সুবাদে সর্বোচ্চ গোলদাতা। চিলির হয়ে আরতুরো ভিদালের আছে সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ তৈরির কৃতিত্ব। তিনি ১৩ বার এমন সুযোগ গড়েছিলেন।
ইত্তেফাক/এমআর