কমিয়ে আনা রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করলো এনবিআর

 
বছরের শুরুতে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলেও শেষ দিকে তা কমিয়ে আনা হয়। কমিয়ে আনা এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পেরেছে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এবার রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ২৩ শতাংশ। অথচ আগের অর্থবছর আদায় বেড়েছিল মাত্র ১৪ শতাংশ।
 
সদ্য সমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরকে ২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। পূর্বের অর্থবছরের আদায়ের চেয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩০ শতাংশ বেশি। অর্থনীতিবিদরা এ লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অতি উচ্চাভিলাসী’ আখ্যা দিয়ে তা অর্জনযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি আঁচ করে অর্থবছরের শেষ দিকে তা সংশোধন করে ১৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় অর্থমন্ত্রণালয়। অর্থাত্ সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় এক লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এনবিআরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আদায় হয়েছে এক লাখ ৮৫ হাজার ৭১ কোটি টাকা। অর্থাত্ ৭১ কোটি টাকার রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।
 
যোগাযোগ করা হলে এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ইত্তেফাককে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে রাজস্ববান্ধব সংস্কৃতি সৃষ্টির সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
 
আগামী অর্থবছরে এনবিআরকে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার নতুন ভ্যাট আইনটি কার্যকর করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে এনবিআর চেয়ারম্যান মনে করেন, এ লক্ষ্যমাত্রা বেশ বড় হলেও তা অর্জনযোগ্য। এ জন্য নতুন নতুন কর অফিস প্রতিষ্ঠা করাসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আয়করে শুভ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২৫ লাখ ই-টিআইএনধারী (করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর) তৈরির লক্ষ্য থাকলেও তা ৩০ লাখে পৌঁছেছে। বাজেট পাশের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থা দেখা যাচ্ছে। নতুন দুটি কর অঞ্চল তৈরি করা হবে। এছাড়া গ্রাম পর্যায়ে আয়কর বিস্তৃত হবে। এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবো।
 
রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এনবিআরের পেইজে এক স্ট্যাটসে বলা হয়, অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে এনবিআরকে এ সাফল্য ধরে রাখতে হয়েছে। নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে এনবিআরকে বিশেষ কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত থাকতে না হলে রাজস্ব আহরণ অনেক বেশি হতো। এতে আরো বলা হয়, পেট্রোবাংলার কাছে ২৩ হাজার কোটি টাকা বকেয়া আদায় না হওয়া, সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার কোটি টাকা (বিভিন্ন প্রকল্পে ভবিষ্যতের বিনিয়োগ) অব্যাহতি না দেওয়া হলে এবং ব্যাংকিং খাতে ১৪ শতাংশ ঋণাত্নক প্রবৃদ্ধি না হলে রাজস্ব আয় আরো বাড়তো। পাশাপাশি ঈদ ও রমজানের দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে পড়ায় শেষ সময়ে রাজস্ব আহরণের পুরো সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যায়নি।
 
প্রসঙ্গত, এর আগে গত তিন অর্থবছর ধরে বছরের শুরুতে নেওয়া রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায় নি। প্রতিবারই তা কমিয়ে আনতে হয়েছিল। এবারো তা সংশোধন করতে হয়েছিল।