জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে নেমেই অভিষেকেই ১৯ বছর বয়সী লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ভানিদু হাসারাঙ্গা হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস তৈরি করেছেন। ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি ৪২তম হ্যাটট্রিক। তবে কোনো লেগ স্পিনারের প্রথম! হাসারাঙ্গা টানা তিন বলে নিয়েছেন জিম্বাবুয়ে শেষ তিন উইকেট। বোলারদের নৈপুণ্যে সিরিজে সমতা নিয়ে আনেন লঙ্কানরা।
অভিষেকে হ্যাটট্রিক করার কীর্তি হাসারাঙ্গার আগে আছে মাত্র দুজনের। ২০১৪ সালে অভিষেকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম। পরের বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেকে হ্যাটট্রিকসহ ১৬ রানে ৬ উইকেট নেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলার কাগিসো রাবাদা।
গলেরে ম্যাচে এদিন সপ্তম বোলার হিসেবে আক্রমণে হাসারাঙ্গা। এক ওভার করিয়েই তাকে সরিয়ে নেন অধিনায়ক। আবার আক্রমণে আনেন খানিক পরই। জিম্বাবুয়ের তখন ৭ উইকেট নেই। স্পেলের দ্বিতীয় ওভারেই হ্যাটট্রিক। ওভারের প্রথম বলটিতে চার মেরেছিলেন ম্যালকম ওয়ালার। পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড। পরের বলটি গুগলি। কিছু না বুঝতে পেরে এলবিডব্লিউ ডোনাল্ড টিরিপানো। পরের বলটি আবারও গুগলি। লোয়ার অর্ডারের জন্য একটু বেশিই ভালো বল। ব্যাট-প্যাডের বিশাল ফাঁক গলে বোল্ড টেন্ডাই চাতারা। সতীর্থদের উল্লাস-উচ্ছ্বাসের মধ্যমণি তখন হাসারাঙ্গা। ২.৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট হাসারাঙ্গার। ৪ উইকেট নিয়ে মিডল অর্ডারে ছোবল দিয়েছেন চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকান।
IMG0
এর আগে গলের মাঠে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্বান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। সান্দাকান ও হাসারাঙ্গার বোলিং তোপে মাত্র ১৫৫ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। জয়ের জন্য ১৫৬ রানের মামুলি টার্গেটে খেলতে নেমে শুরুতে বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ১০ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। এরপর প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেন আরেক ওপেনার ও উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকবেলা এবং উপুল থারাঙ্গা। ১৬ ওভার ব্যাট করে দু’জনে ৬৭ রান করেন। এতে ভালো অবস্থায় পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ব্যক্তিগত ৩৫ রান করে ডিকবেলা থামলে ক্রিজে থারাঙ্গার সঙ্গী হন অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। শেষ পর্যন্ত থারাঙ্গা ও ম্যাথুজ মিলে দলের জয় নিশ্চিত করেন। চতুর্থ উইকেটে ৭১ বলে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের জুটি গড়েন থারাঙ্গা ও ম্যাথুজ। ম্যাচের সেরা হয়েছেন শ্রীলংকার সান্দাকান।
IMG1
আগামী ৬ জুলাই হাম্বানটোটায় অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে : ১৫৫/১০, ৩৩.৪ ওভার (মাসাকাদজা ৪১, ওয়ালার ৩৮, সান্দাকান ৪/৫২)।
শ্রীলঙ্কা : ১৫৮/৩, ৩০.১ ওভার (থারাঙ্গা ৭৫*, ডিকবেলা ৩৫, চাতারা ২/৩৩)।
ফল : শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : লক্ষণ সান্দাকান (শ্রীলংকা)।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা।