অভিষেকে হাসারাঙ্গার হ্যাটট্রিক

 
অভিষেক ম্যাচে প্রথম বল করার সুযোগ পেয়েছিলেন ২৬তম ওভারে এসে। প্রথম ওভারে ম্যাচের ধারার বিপরীতে গিয়ে ৮ রান ব্যয় করে ফেলার পর আবারো বল হাতে পেতে অপেক্ষা করতে হলো ৩২তম ওভার পর্যন্ত। সে ওভারেও বলার মতো কিছু নেই। ৩৪তম ওভারের প্রথম বলেও চার হজম করেছিলেন। আর পরের তিনটি বলেই গড়ে ফেললেন এক ইতিহাস। ঠিক ইতিহাস বললেও বোঝা যায় না।
 
ওয়ানাইদু হাসারাঙ্গা একটা নতুন জগতের সৃষ্টি করে ফেলেছেন। বিশ্বের প্রথম লেগ স্পিনার হিসেবে ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করে ফেলেছেন। অভিষেকে হ্যাটট্রিক এমনিতেই বিরল একটা ব্যাপার। গতকাল বিশ্বের মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে অভিষেক ওয়ানডেতে পর পর তিন বলে তিন উইকেট তুলে নিলেন হাসারাঙ্গা। তবে সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো তার আগে কোনো দিন কোনো লেগ স্পিনার ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিকই করতে পারেননি।
 
 
 
হাসারাঙ্গার এই কীর্তির আগেই অবশ্য শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করে ফেলেছেন জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরানো। শেষ অবদি এই তরুণের রেকর্ডের ম্যাচে ৭ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ৫ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
 
এই গলে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের গুড়িয়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। গতকাল রবিবার নতুন চেহারায় মাঠে নামা লঙ্কান স্পিন আক্রমণ একেবারে উল্টো রূপ ধারণ করলো। গতকাল ম্যাচে ফিরলেন লাকসান সান্দকান। এই চায়নাম্যান বোলারই মূলত জিম্বাবুয়েকে আটকে দেওয়ায় নেতৃত্ব দেন।
 
আগের দিনের সেঞ্চুরিয়ান সলোমন মিরেকে শূন্য রানে আউট করে শুরু করেন নুয়ান প্রদীপ। এরপর পর পর চারটি উইকেট তুলে নেন সান্দকান। আর তাতেই কার্যত শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ।
 
আর শেষ বেলায় এসে পর পর তিন বলে তিন উইকেট নিয়ে হাসারাঙ্গার রেকর্ড। এই লঙ্কান তরুণের হ্যাটট্রিকটি ছিল ওয়ানডে ইতিহাসের ৪২তম হ্যাটট্রিক। তার আগেও ৬ জন স্পিনার ওয়ানডেতে হ্যাটট্রিক করেছেন। আর ওয়ানডে অভিষেকে এর আগে হ্যাটট্রিক ছিল বাংলাদেশের তাইজুল ইসলাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাগিসো রাবাদার। সেই তালিকায় নাম লেখানোর পাশাপাশি নিজেই লেগ স্পিনারদের জন্য একটা তালিকা শুরু করলেন হাসারাঙ্গা।
 
১৫৫ রানে জিম্বাবুয়ে গুড়িয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে আর খুব একটা উত্তেজনার কিছু থাকার কথা নয়। কিন্তু টেন্ডাই চাতারা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে এসে পর পর দুই বলে তুলে নেন শ্রীলঙ্কার ২ উইকেট। সে উত্তেজনা অবশ্যই মিইয়ে দেন উপল থারাঙ্গা। ৭৫ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে তবে মাঠ ছাড়েন তিনি।
 
ইত্তেফাক/এমআর