সাতক্ষীরায় পাউবোর বেড়িবাঁধে ভাঙন

বর্ষা মৌসুম শুরুতেই সাতক্ষীরা পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১ ও ২ এর আওতাধীন ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে তিনশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আইলা বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, দেবহাটাসহ ৫টি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

ইতোমধ্যে আশাশুনি উপজেলার কপোতাক্ষ নদের চাকলা ও কুড়িকাউনিয়া গ্রামে এবং খোলপেটুয়া নদীর কোলা ও বিছট গ্রামে সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এবং শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ি ইউনিয়নের ঝাপালী এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে এ দুটি উপজেলার হাজার হাজার বিঘা মত্স্য ঘের ও ফসলি জমি। বার বার বেড়িবাঁধ সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও টনক নড়ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টদের বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই নদীর পানি বৃদ্ধি ও জোয়ারের তীব্র স্রোতে সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলার খোলপেটুয়া, কপোতাক্ষ, ইছামতি ও বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বিভাগ-১ ও ২ এর অধীনে ১১টি পোল্ডারে ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৫০টি পয়েন্টে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একশ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কে তাই দিন কাটাচ্ছে নদীর তীরবর্তী এ অঞ্চলের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ- ১ ও ২ এর আওতাধীন আশাশুনি উপজেলার জেলেখালী, দয়ারঘাট, চাকলা, বিছট, কোলা, হাজারাখালী, ঘোলা ত্রিমোহনী, হিজলিয়া, কেয়ারগাতি, চণ্ডিতলা ও বুধহাটার তেঁতুলতলা, দেবহাটা উপজেলা দেবহাটা, খারাট এবং শ্যামনগর উপজেলার পদ্ম পুকুর, গাবুরা, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সিগঞ্জ ও রমজাননগর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে এই তিন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে কয়েক লক্ষাধিক লোক পানিবন্দি হবে। হাজার হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের ও ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাবে। কোটি কোটি টাকার চিংড়ি উত্পাদন ব্যাহত হবে।

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এসএম আতাউর রহমান বলেন, তার ইউনিয়নের চারদিক কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদী বেষ্টিত। তার ইউনিয়নে কমপক্ষে ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।

শ্যামনগর উপজেলার আরেকটি দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরা। গাবুরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদুুল আলম জানান, আইলা ও সিডরে বিধ্বস্ত গাবুরার নাপিতখালী, লেবুবুনিয়া, কালিবাড়িসহ তার আশপাশের এলাকায় বেড়িবাঁধের অবস্থা ভাল না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ না ভাঙলে কখনও খোঁজ-খবর নেয় না।

জেলার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের হিজলিয়া, কোলা, শুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, দয়ারঘাট, মনিপুর, শ্রীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে আর এক-দুই হাত অবশিষ্ট আছে। এ বছর বেড়িবাঁধ ভেঙে তার ইউনিয়ন অন্তত চারবার প্লাবিত হয়েছে।

বাঁধ না ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঘুম ভাঙে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, একবার বাঁধ ভাঙলে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তলিয়ে যায়। অবকাঠামো নাজুক হয়ে পড়ে। বাঁধ ভাঙলে সংস্কার করা হয়, ভাঙার আগে বার বার বলা সত্ত্বেও কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। তার ইউনিয়নের অন্তত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঠিক একই অবস্থা আনুলিয়া, বড়দল, খাজরা ইউনিয়নেও।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক জানান, ১১ টি পোল্ডারে ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৩শ’ কিলোমিটার ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ৫০টি পয়েন্টে ১০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এবছরও ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ১০ লাখ টাকার বরাদ্দ পেয়েছি। এছাড়া টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য এডিপি প্রকল্প জাইকার কাছে ৫শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চাওয়া হয়েছে। এটি পেলে এ এলাকার বাঁধগুলো স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

ইত্তেফাক/নূহু