তালা উপজেলার কপোতাক্ষ নদের ভেড়িবাঁধ দখল করে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছে ভূমি দস্যুরা।
এক কালের প্রবাহমান নদ কপোতাক্ষ ছিল মৃত প্রায়। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ড নদটি খনন করে ভেড়িবাঁধের দুই পাশে স্তূপ করে মাটি রাখে। আর কতিপয় ভূমি দস্যু ভেড়িবাঁধের ওই মাটি সমান করে অবাধে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছে। অথচ প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী কপোতাক্ষ খননের মাটি পাড় থেকে কমপক্ষে ১শ ফুট দূরে ফেলতে হবে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা না করায় এবং নিয়ন্ত্রণ না রাখায় ভূমিদস্যুরা নদের পাড় অবৈধভাবে দখলের সুযোগ পাচ্ছে।
তবে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন বলেন, কেউ কপোতাক্ষ দখল কিংবা নদের পাড় দখল করে চাষাবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালা উপ-শহরের বুক চিড়ে প্রবাহিত হয়েছে কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের কপোতাক্ষ নদ। এককালে তালা পাটকেলঘাটা ও তার পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি বাজার শুধু কপোতাক্ষ নদের কারণে বাণিজ্যে সমৃদ্ধ ছিল। কলকাতা থেকে সেকালে কপোতাক্ষ নদে জাহাজে করে মালপত্র আসতো তালা পাটকেলঘাটা ও কপিলমুনিসহ বিভিন্ন থানা শহরে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আস্তে আস্তে জনবসতি গড়ে ওঠে কপোতাক্ষের তীর ঘেঁষে। ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ বৃহত্ গঞ্জ গড়ে ওঠে তালা পাটকেলঘাটা ও পার্শ্ববর্তী কপিলমুনিতে; কিন্তু আজ সেই কপোতাক্ষ নদ হারিয়েছে তার জৌলস।
এদিকে অনেকেই কপোতাক্ষ নদের পাড় কেটে মাটি ও নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে ইচ্ছেমতো। সম্প্রতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ভূমি দস্যুরা। তারা বিভিন্ন কৌশলে কপোতাক্ষ দখল করে নদটির সৌন্দর্য বিলীন করে চলেছে। এভাবে চলতে থাকলে সদ্য খনন নদটি আবারও ভরাট হয়ে বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু