প্রবল বর্ষণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে বিধস্ত হয়েছে দেড় শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন মধ্য বয়সী এক নারী। নিহতের নাম ছেমুনা খাতুন নামে (৪৪)। আহত হয়েছে অন্তত ১০জন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার লোকজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় ভেসে গেছে মৎস খামার। ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে নিকটবর্তী বিদ্যালয় ও মাদরাসায়।
নাইক্ষংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.এইস.এম তৌহিদ কবির জানান, বিকালে উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের আজু খাইয়া ফকিরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে মারা গেছেন ছেমুনা খাতুন। এই ঘটনায় তার কন্যা আমেনা খাতুন(২২) গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত ছেমুনা ওই এলাকার মো: মাজেদের স্ত্রী। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে বলে ওসি নিশ্চিত করেন।
জনপ্রতিনিধিরা জানান, ভারি বর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে নাইক্ষ্যংছড়ির নিম্ন এলাকায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনের টানা অতিবর্ষণে ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার (৫ জুলাই) দিনভর উপজেলার নিম্ন এলাকায় অন্তত শতাধিক গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এসব গ্রামে শতাধিক মৎস্য খামারসহ তিন শতাধিক কাঁচা মাটির বসতঘর এবং হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু ভেসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। এছাড়াও নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কে সকাল থেকে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান, বুধবার বিকেলে আশারতলী, কম্বনিয়া, ধুংরী হেডম্যানপাড়া, বড়–য়া পাড়া, বাজারপাড়া, উপজেলা পরিষদ নীচ তলা, বিজিবি ক্যাম্প এলাকাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম বন্যায় ডুবে গেছে। ২০১২ সনের পর এটি বৃহৎ বন্যা বলে চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী জানান।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও) এস,এম সরওয়ার কামাল জানান, বন্যা পরিস্থি আরো অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে রাতে বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত এলাকায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকেও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কয়েকটি টিম কাজ করছে বলে ইউএনও জানান।
ইত্তেফাক/নূহু