জঙ্গি তৎপরতা ও আস্তানাসহ সন্ত্রাস বিরোধী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বিতীয় দফা বিশেষ অভিযানে গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের গ্রামগুলো এখন পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে। প্রথম দফা বুধবার (৫ জুলাই) গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লারচর ইউনিয়নের আটটি চরে একটানা সাত ঘন্টা অভিযান চালানো হয়।
এরপর দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার ভোর রাত ৩ টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত জেলার ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে অভিযান শেষে এমন মন্তব্য করেন ফুলছড়ি থানার ওসি আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান। তিনি আরো জানান, জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, তালিকাভুক্ত মামলার আসামী ও নৌ ডাকাত গ্রেফতারের এ অভিযানে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) মো. মইনুল হকের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, ফুলছড়ি থানা পুলিশ ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের ৫০ সদস্য অংশ নেয়। কিন্তু আগে থেকে পুলিশি অভিযান টের পাওয়ায় ওই সব এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়ায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় নাই।
সাত ঘণ্টার এ অভিযানে ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ধলিপাটাধোয়া, পশ্চিম জিগাবাড়ী, জিগাবাড়ী, আলগার চর, ডাকাতিয়ার চর, ভাটিয়া পাড়া, চর হরিচন্ডি, হরিচন্ডি, দক্ষিণ হরিচন্ডি, দক্ষিণ সন্ন্যাসীর চর, উত্তর পাগলার চর, বুলবুলির চরসহ উপজেলার বিভিন্ন চরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি চালায়।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ্ আল ফারুক জানান, চরাঞ্চলে জঙ্গি, সন্ত্রাসীরা আত্মগোপন করে থাকতে পারে সন্দেহে অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া নদনদীতে পানি বৃদ্ধির সময় চরাঞ্চলে নৌ-ডাকাতি বৃদ্ধি পায়। এসব অপরাধ রোধে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে জেলা পুলিশের সিদ্ধান্তে এই অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের রুটিন কাজের আওতায় পর্যায়ক্রমে জেলার সকল চরাঞ্চলগুলোতে জঙ্গি বিরোধী এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান জানান, গাইবান্ধার প্রাণ কেন্দ্র থেকে ৩০কিলোমিটার দূরে বালাসীঘাট, তারপর সেখান থেকে প্রায় আরো ৩০কিলোমিটার শ্যালোর নৌকায় আসার পর এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন। অন্যদিকে ফুলছড়ি থানা সদর (পুলিশ স্টেশন) থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার শ্যালোর নৌকায় ৩ঘন্টার পথ শেষে এরেন্ডাবাড়ী। যমুনা নদীর পাড়ে প্রায় শত বছর আগে গড়ে উঠা কিছু দ্বীপাঞ্চল এবং বালু চর নিয়ে গঠিত ১৮টি মৌজার এ ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় ৩১ হাজার। এই ইউনিয়নের উত্তরে-গাইবান্ধা সদরের মোল্লারচর, দক্ষিণ ও পূর্বে জামালপুর জেলা এবং পশ্চিমে ফজলুপুর ইউনিয়ন।
খুব গুরুতর কোন ঘটনা না ঘটলে এ এলাকায় সাধারণত পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায় না। এসব কারণে অপরাধীরা সহজে এখানে আত্মগোপন করে থাকতে পারে। ফলে বর্তমানে এই ইউনিয়নটি মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের অভয়রাণ্য হয়ে উঠেছে। বিষয়টি ফুলছড়ি থানার ওসিকে অবগত করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মূল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন সীমান্তবর্তী দুর্গম এই ইউনিয়নের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখানে স্থায়ীভাবে পুলিশ ফাঁড়ি প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়টি হল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে ওই সব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা ও থানা পুলিশের নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত. গাইবান্ধা সদরসহ তিন উপজেলার চরাঞ্চলে গত বছরও অভিযান চালিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে সে অভিযানে বড় কোনো সাফল্য মেলেনি। কিন্তু জঙ্গি তৎপরতার জন্য দেশের হোলি আর্টিজান হামলাসহ বারবার একাধিক পত্রিকায় উঠে এসেছে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ির চরাঞ্চলগুলোর নাম।
ইত্তেফাক/সাব্বির