হ্যামিল্টন মাসাকাদজার সেঞ্চুরি বৃথা করে দিয়ে নিজেরা সেঞ্চুরি করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলকে লিড এনে দিলেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার নিরোশান ডিকবেলা ও দানুষ্কা গুনাথিলাকা। হাম্বানটোটায় সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারালো শ্রীলঙ্কা। ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেলো স্বাগতিক লঙ্কানরা।
দ্বিতীয় ওয়ানডের মত এ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রন জানায় শ্রীলঙ্কা। দলকে ৩৯ রানের সূচনা এনে দেয়ার পর ব্যাট হাতে শ্রীলঙ্কার বোলারদের শাসন করেন মাসাকাদজা। দ্বিতীয় উইকেটে তারিসাই মুসাকান্দার সাথে ১১৫ বলে ১২৭ রানের জুটি গড়েন মাসাকাদজা। মুসাকান্দা ৪৮ রানে ফিরলেও, এক প্রান্ত আগলে জিম্বাবুয়ের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন মাসাকাদজা। এতে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এটিই তার ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।তিন অংকে পা দিয়ে নিজের ইনিংসটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি মাসাকাদজা। দলের ৩৩তম ইনিংসের প্রথম বলে যখন আউট তখন মাসাকাদজার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিলো ১১১ রান। তার ৯৮ বলের ইনিংসে ১৫টি চার ও ১টি ছক্কার মার ছিলো।
IMG0
মাসাকাদজার বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ের স্কোরকে রানের পাহাড়ে বসিয়েছেন পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। সিন উইলিয়ামসের ৪৭ বলে ৪৩, শেষের দিকে উইকেটরক্ষক পিটার মুরের ১১ বলে ঝড়ো ২৪ ও সিকান্দার রাজার ১৭ বলে অপরাজিত ২৫ রানের উপর ভর করে ৮ উইকেটে ৩১০ রানের বড় সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। শ্রীলংকার পক্ষে হাসারাঙ্গা ও গুনারত্নে ২টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ৩১১ রানের জবাবটা শক্তহাতেই দেন শ্রীলংকার দুই ওপেনার ডিকবেলা ও গুনাথিলাকা। জিম্বাবুয়ের ফিল্ডার ক্যাচ ফেলার সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগান তারা। ফলে দু’জনই তুলে নেন সেঞ্চুরি। আর দলকে উদ্বোধণী জুটিতে এনে দিয়েছেন ২২৯ রান। শ্রীলংকার পক্ষে যেকোন উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ রানের ক্ষেত্রে এটি পঞ্চমস্থানে। আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ও যেকোন উইকেট জুটিতে এই রান দ্বিতীয়স্থানে।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৭তম ম্যাচে এসে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে ১০২ রানে ফিরেন ডিকবেলা। ১১৬ বল মোকাবেলা করে ১৪টি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ডিকবেলা আউটের ৮ রান পরই থেমে যান গুনাথিলাকাও। ১৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১১ বলে ১১৬ রান করেন গুনাথিলাকা।
IMG1
দুই সেঞ্চুরিয়ান যখন বিদায় নেন তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিলো ৭৩ বলে ৭৪ রান। দলের জয়ের জন্য বাকী কাজটুকু ভালোভাবেই সম্পন্ন করে ফেলেন কুশাল মেন্ডিস ও উপুল থারাঙ্গা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৫৭ বলে অবিচ্ছিন্ন ৭৫ রানের জুটি গড়েন তারা। মেন্ডিস ২৫ বলে ২৮ ও থারাঙ্গা ৩২ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের সেরা হয়েছেন গুনাথিলাকা। একই ভেন্যুতে আগামী ৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে। বাসস।
ইত্তেফাক/রেজা