ভৈরব নদী ভাঙনে বাগেরহাট-রূপসা সড়ক হুমকির মুখে

বাগেরহাটের ভৈরব নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে হুমকির মুখে পড়েছে বাগেরহাট-রুপসা পুরাতন সড়ক। এরই মধ্যে যাত্রাপুরের মুচিঘাট নামক স্থানে নদী ভাঙনের কারণে সড়কটির অর্ধেকেরও বেশি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর সড়কটির বাকি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় যে কোনো সময় পুরো সড়কটি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবাহি মাহেন্দ্র, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, মালবাহি ট্রাকসহ শত শত যানবাহন চলাচল করছে এ সড়কটি দিয়ে। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সংস্কার নিয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক বিভাগ পরস্পর বিরোধী বক্তব্য দিয়েছে।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তাই সড়কের সংস্কার করার দায়িত্ব তাদের। অপরদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে নদী ভাঙনের কারণে সড়কটি ভেঙে গেছে। তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব ভৈরব নদীর পাইলিংয়ের কাজ করা। তাহলে সড়কটি ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে।

সড়কটিতে চলাচল করা বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা জানান, প্রতিদিন এ সড়কটি দিয়ে মাহেন্দ্র, ইজিবাইক ও মালবাহি ট্রাকসহ শত শত যানবাহন চলাচল করে। সড়কটি ভেঙে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এরই মধ্যে ছোট-খাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীসহ বিভিন্ন যানবাহন। এর আগেও যাত্রাপুরের এই একই স্থানে নদী ভাঙনের কারণে সড়কটির কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গিয়েছিল। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

এ বিষয়ে যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমএ মতিন বলেন, ‘এ জায়গাটি একাধিকবার ভাঙনের কবলে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা কাজের কারণে বার বার নদী ভাঙনে এ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি এলাকাবাসির পক্ষে দ্রুত এ সড়কটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’

বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাশিদুর রেজা বলেন, নদী ভাঙনে সড়কটির কিছু অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যার সংস্কার কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া সড়কটি সচল রাখতে ও ঝুঁকি এড়াতে সড়কটির পাশে ইটের সোলিং দিয়ে সাময়িক সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যাতে যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খুশী মোহন সরকার বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি বাগেরহাট-রুপসা পুরাতন সড়কে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করেছি। আপাতত নদী পাইলিংয়ের কাজ করা হবে। যেহেতু সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের তাই সড়ক সংস্কারের কাজ তারাই করবে।’

ইত্তেফাক/নূহু