টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাঘাটায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলাার ২১টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে পানিবন্দি এলাকার মানুষের মধ্যে ডাকাতের আতংক বিরাজ করছে।
সরে জমিনে গিয়ে খোজনিয়ে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে এসে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সাঘাটা উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের পূর্বাংশে ২১টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্লাবিত গ্রাম গুলো হলো- হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, বেড়া, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, গুয়াবাড়ি, কানাই পাড়া, জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কাঠুর, থৈকরের পাড়া, র্প্বূ আমদির পাড়া, ঘুড়িদহ ইউনিয়নের চিনিরপটল, খামার পবনতাইড়, সাঘাটা ইউনিয়নের হাটবাড়ি, গোবিন্দী, বাঁশহাটা,দক্ষিণ সাথালিয়া, কালুরপাড়া,হাসিলকান্দি, ভরতখালি ইউনিয়নের বরমতাইড় ও ভাঙ্গামোড়। প্লাবিত ওইসব গ্রামের মানুষ গবাদিপশু পাখি নিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে। নিমজ্জিত হয়েছে কৃষকের পাট, ঢেঁড়স, করলা, পটল, বীজতলা, বেগুনসহ নানা জাতের বর্ষাকালীন ফসল ও শাক-সবজি। প্লাবিত গ্রামগুলোতে বাড়ি বাড়ি হানা দিয়ে কৃষকের গরু-ছাগল ও মালামাল লুট করে যাচ্ছে। এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষরা বেকার হয়ে পড়ায় তাদের মধ্যে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষের পাশাপাশি গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে প্রকট ভাবে।
হলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী জানান, তার ইউনিয়নের সব কয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। লোকজন পানিবন্দী হয়ে বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে দিন মজুররা বেশী সমস্যায় রয়েছেন। তাদের কাজকর্ম না থাকায় পরিবারে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পানিবন্দি মানুষগুলোর মধ্যে ডাকাতের আতংক বিরাজ করছে। রাত জেগে কৃষকরা মাইকিং করে নিজেদের বাড়ি-ঘর পাহাড়া দিচ্ছেন। সাঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রেজয়ানুল হক জানান, বন্যায় কৃষকের পাট, কড়লা, ঢেঁড়স, পটল, বীজতলাসহ প্রায় ২৫ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই