চিকিত্সক ও জনবল সংকটে নড়াইল সদর হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। ফলে নড়াইলবাসীর উন্নত স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তির একমাত্র মাধ্যম একশ’ শয্যার নড়াইল সদর হাসপাতালটি বর্তমানে খুঁড়িয়ে চললেও প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর চাপ। এখানে প্রতিদিন গড়ে ইনডোরে ১৭০ জন এবং আউটডোরে ২৬০ জন চিকিত্সাসেবা নিচ্ছেন। এছাড়া ১৭ সিটের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছে। এসব সেবা দিচ্ছেন মাত্র ১৭ জন চিকিত্সক। আর বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের ১৯ জনের মধ্যে আছেন মাত্র চারজন। এদিকে একনেকে সদর হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের অনুমোদন হলেও বিষয়টি প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে।
নড়াইল সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যার সদর হাসপাতালটি ২০০৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর একশ’ শয্যায় উন্নীতকরণ করা হলেও ২০১৩ সালে এর অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয় এবং আসবাবপত্র ও জনবল নিয়োগ শুরু হয়। একশ’ শয্যার জন্য প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পর্যন্ত দু’শ’ ২৩টি পদের প্রস্তাব করা হলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ৩৫টি পদ সৃজন করা হয়। এর মধ্যে এ পর্যন্ত দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির মাত্র পাঁচটি পদে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মূলত ৫০ শয্যার চিকিত্সক ও লোকবল দিয়েই বর্তমানে একশ’ শয্যা হাসপাতালের কাজ চলছে। নড়াইল সদর হাসপাতালের শিশুবিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. অনিতা সাহা বলেন, ২০১২ সাল থেকে ১৭ সিটের (প্রথমে আটটি ও পরে নয়টি) নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এখানে ওজন কম, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, খিঁচুনিসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত নবজাতকরা সেবা গ্রহণ করছে। নবজাতকদের তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্বক্ষণিক চিকিত্সক, নার্স, আয়া ও সুইপার নেই। তারপরও এখানে গত দুই মাসে ১৬৭ জন নবজাতক সেবা নিয়েছে।
নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুত্ কান্তি পাল বলেন, এখানে প্রয়োজনীয় চিকিত্সক, আরএমওসহ জনবল নেই। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে নড়াইল সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য একনেকে অনুমোদন হয়েছে। আমরা লোকেশন চিহ্নিত করেছি। ইতোমধ্যে গণপূর্ত বিভাগ এ জায়গার সয়েল টেস্ট করেছে। রিপোর্ট পেলে প্লান পাস করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে জেলার মানুষ উন্নত চিকিত্সাসেবা পাবে বলে তিনি মনে করেন।
ইত্তেফাক/নূহু