উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনায় ৫ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে । উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ৭ টি ইউনিয়নের ৫০ টি গ্রামের ১০ হাজার পরিবারের অর্ধ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার ৫১ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় উপজেলার সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির পাট, আউশ,বীজতলা ও শাকসবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।বন্যার কারণে যমুনা তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বয়রাকান্দি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রকল্প এলাকায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় বয়রাকান্দি, ধলিরকান্দি ও বড়ইকান্দি গ্রামের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।যমুনার ভাঙনে ইতিমধ্যে বয়রাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। উল্লেখ্য, ২৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে রৌহাদহ থেকে কর্ণিবাড়ি পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার যমুনার তীর সংরক্ষণ কাজ চলমান রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সারওয়ার আলম জানান, বন্যাকবলিত ১হাজার পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ আছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, বয়রাকান্দি পয়েন্টে নদীর তীর জেগে উঠলে ডাম্পিং শুরু করা হবে।
ইত্তেফাক/এমআর