ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত মালামাল জব্দ করে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে বেনাপোল আর্ন্তজাতিক চেকপোস্টের দায়িত্বরত কাস্টমস কর্মকর্তারা।
গত (সেপ্টম্বর-অক্টোবার) ২ মাসে ৮২৬টি ডিটেনশন মেমোর (সাময়িক আটক পত্র) মাধ্যমে ভারত থেকে আসা বাংলাদেশি ও ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রীদের কাছ থেকে এ মালামাল জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে শাড়ি, থ্রিপিস, জুতা, কসমেটিকস্, সাবান, চকলেট, আগরবাতি এবং বিভিন্ন ব্যান্ডের ভারতীয় মদ, মোটর পার্টস এবং আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ। জব্দকৃত মালামালের ডিটেনশন মেমো দেয়া হচ্ছে। তবে মালিক বিহীন মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতে বহির্গামী যাত্রীর সংখ্যা ছিল বাংলাদেশি ৭৯ হাজার ৪১৭ জন, বিদেশি ৯ হাজার ৫৬ জন। বাংলাদেশে আগমনী যাত্রীর সংখ্যা ছিল বাংলাদেশি ৮০ হাজার ৮ জন এবং বিদেশি যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৭ শত ৩৮ জন। এ সব যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণকর বাবদ রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৫১ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ভ্রমণকর অব্যহতি দেয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৬৩ জনকে। এ সময় ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের ৫৩০টি ডিটেনশন মেমোর (সাময়িক আটক পত্র) মাধ্যমে মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
তা ছাড়া অক্টোবার মাসে এ পথে বহির্গামী যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৯৬ হাজার ৯১৪ জন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ৮১ হাজার ২০১ জন, বিদেশি ১৩ হাজার ৬১২ জন এবং আগমনী যাত্রীর সংখ্যা ছিল বাংলাদেশি ৯২ হাজার ৫৭ জন এবং বিদেশি ১২ হাজার ১৭০ জন। এ সব যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণকর বাবদ রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৭ হাজার টাকা। ভ্রমণকর অব্যহতি দেয়া হয়েছে ২ হাজার ১০১ জনকে। এ সময় ব্যাগেজ ব্যবসায়ীদের ২৯৬টি ডিটেনশন মেমোর মাধ্যমে মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ব্যাগেজ ব্যবসার সহায়তা করে আসছিল। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার পরিচয় দিয়ে এ সব সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ব্যাগেজ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জন প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে আসছিল। আদায়কৃত এ সব টাকা সপ্তাহ শেষে বেনাপোলে কর্মরত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার গুরুত্বপুর্ণ পদে কর্মরত কতিপয় সদস্যদের মাঝে ভাগ-বাটোয়ারা করে দিয়ে আসছিল এসব সিন্ডিকেট সদস্যরা। প্রতিদিন ভারত থেকে আসা ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা লাখ লাখ টাকায় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ব্যাগেজ সুবিধার অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে আসছিল।
এ ব্যাপারে বেনাপোলের কয়েকজন আমদানীকারক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, ব্যাগেজ ব্যবসার কারণে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ছোট ছোট আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা যে সব মালামাল ভারত থেকে আমদানি করে সর্বনিন্ম ২০০ টাকার নিচে বাজারে বিক্রি করতে পারি না সে সব মালামাল ব্যাগেজ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করে থাকেন ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। এ কারণেই অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে যাত্রী সেবা অধিকতর নিশ্চিতকল্পে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে এই চেকপোস্টকে ব্যবহার করে যেন কোনো অসাধু চক্র ব্যাগেজ ব্যবসার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাচালান, মুদ্রা পাচারের মত কোনো অপরাধ করতে না পারে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রয়েছে। তবে অভিযানে ব্যাগেজ ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় কিছু ব্যাগেজ ব্যবসায়ী ভুয়া মিডিয়া কর্মী পরিচয়দানকারী দালাল কাস্টমস এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার চালাতে তারা ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করছে। ইতিমধ্যে ওই সব দালালদের নামের তালিকা আমরা পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ইত্তেফাক/ইউবি