যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে ৮ মাসের মাথায় আবারও নবজাতক চুরি হলো। গতকাল (রবিবার) বেলা ১১টায় একদিন বয়সী শিশুপুত্র হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ড থেকে চুরি হয়। শনিবার এই হাসপাতালেই সিজারের মাধ্যমে শিশুটি ভূমিষ্ট হয়। হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা ৫ সদস্যের একটি চোরচক্র নবজাতক চুরির সাথে জড়িত বলে ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে জানা গেছে।
শিশুটির মা রূপালী খাতুন ইত্তেফাককে জানান, রবিবার সকালে চিকিৎসকের রাউন্ড শেষের পর সবুজ বোরকা পরা একজন মহিলা শাশুরির কাছ থেকে তার শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে আদর শুরু করে। এ সময় তিনি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয় বলে কারও কোলে দিতে শাশুরিকে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি তা উপেক্ষা করে শিশুটিকে ওই মহিলার কোলে দিয়ে বাইরে বের হন। চোখের পলকে শিশুটিকে নিয়ে মহিলা হাওয়া হয়ে যান। সন্তানহারা রূপালীর স্বামী সদর উপজেলার রূপদিয়া সাহাপুরের সাইফুল ইসলাম দর্জ্জির কাজ করেন। ৬ বছর বয়সী তাদের আরেক পুত্রসন্তান রয়েছে।
শিশু চুরির খবর জানতে পেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্দেহভাজন এক মহিলাকে আটক করে। কোতোয়ালী থানা পুলিশ ওই মহিলাকে তাদের হেফাজতে নিয়েছে।
এদিকে ইত্তেফাকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, আটক ওই মহিলা শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার মমতাজের নেতৃত্বেই ৫ সদস্যের একটি চোরচক্র হাসপাতালে সক্রিয় রয়েছে। রোগীদের টাকাপয়সা, ওষুধপত্র, মোবাইল ফোন এমনকি সুযোগ বুঝে শিশু চুরি করা এই চক্রের কাজ। আটক মহিলা মমতাজ ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকেন বলে কর্তৃপক্ষ তার কাছে অসহায় বলে একটি সূত্র জানায়। এর আগে গতবছরের ২১ নভেম্বর এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একজন প্রসূতির ৮ দিনের শিশুপুত্রকেও এই চক্রটি চুরি করে। তখনও এই মমতাজকে আটক করে পুলিশ। প্রায় পক্ষকাল পরে ওই শিশুটি উদ্ধার হয়।
কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ইত্তেফাককে বলেন, ‘চুরি যাওয়া শিশুর স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতেই মমতাজকে আটক করা হয়েছে। তবে আমি এই থানায় ছিলাম না বলে ৮ মাস আগের শিশু চুরির ঘটনায় এই মহিলা জড়িত ছিল কিনা আমার জানা নেই। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডা. কামরুল ইসলাম বেনু ইত্তেফাককে বলেন, ‘৮ মাস আগে আমি এখানে ছিলাম না। আর কাউকে আটকের পর সেটা পুলিশের দায়িত্ব। আমরা কিছু জানি না।’ চোর সিন্ডিকেট সম্পর্কে বলেন, ‘এখান থেকে রোগী ভাগিয়ে নিতে দালালরা জড়িত জানি। এরাই চুরির সাথে আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।’
ইত্তেফাক/এমআই