কক্সবাজারে বিশেষ অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ আটক ২

কক্সবাজার শহরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উশা মে রাখাইনের মাদকের আস্তানাসহ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় হেরোইন, গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। আটককৃতেদর মধ্যে একজনের নামে মামলা হয়েছে। অপরজনকে ৬ মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
বুধবার (১২ জুলাই) ভোর চারটা থেকে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রাখাইন পাড়া, পেশকার পাড়া, বড় বাজার, সমিতি পাড়ায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
 
অভিযানে আটককৃতরা একজন হলেন- শহরের ক্যাংপাড়ার মৃত থেনুলা থিন রাখাইনের ছেলে প.জ রাখাইন (৩৭)। তিনি উশা মে রাখাইনের মাদকদ্রব্য সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারী। তবে, শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞি উশা মে রাখাইন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করতে পরেনি অভিযানকারী দল। উশা রাখাইন পূর্ব রাখাইনপাড়ার ক্যয্য রাখাইনের স্ত্রী। তার বিরুদ্ধে মাদক অাইনে অনেক মামলা রয়েছে। এসব অভিযোগে তিনি বেশ কয়েকবার কারাগারে ছিলেন।
 
এ ঘটনায় পলাতক শীর্ষ মাদক সম্রাজ্ঞি উশা মে রাখাইন ও আটক কর্মচারী প.জ রাখাইনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে।
 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর ইন্সপেক্টর ধননজয় চন্দ্র দেবনাথ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
 
অন্যদিকে, শহরের সমিতিপাড়া থেকে ৩৯পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয় মো. রিদুয়ান (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি ওই এলাকার মো. হোসেনের ছেলে। তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম। আটক দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
 
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার এর ইন্সপেক্টর ধননজয় চন্দ্র দেবনাথ কক্সবাজার নিউজ ডট কম (সিবিএনে)-কে জানান, মাদকের কারণে যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে। পর্যটন শহরকে মাদকমুক্ত করতে ভোর থেকে শহরের বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান চালানো হয়।
 
তিনি জানান, অভিযানে উশা রাখাইনের বাড়ি থেকে ১২০ পুরিয়া হেরোইন ও ২৭০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। সমিতিপাড়া থেকে ইয়াবাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকদ্রব্য বিরোধী এই অভিযানে আনসার ব্যাটেলিয়নের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
 
এদিকে ভোর থেকে চালানো প্রশাসনের দুঃসাহসিক এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার দাবী সবার।
 
ইত্তেফাক/এমআই