বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে গাইবান্ধার বানভাসি মানুষ

 
গাইবান্ধার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বুধবার আরো অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ও ঘাঘটের পানি ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই অবস্থায় বানভাসি মানুষ খাবারের সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটে পড়েছে। 
 
এছাড়া, করতোয়া ও তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। বন্যাকবলিত সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের দুই লাখের অধিক বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ওই চার উপজেলার ১৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ও সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
 
বন্যা কবলিত চার উপজেলায় ৮২টি সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরমধ্যে ১৭টিতে বন্যা কবলিত মানুষ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। এদিকে বানের দুর্ভোগের সাথে তীব্র হয়েছে নদী ভাঙন। গত চারদিনে সদরের কামারজানি, ফুলছড়ির ফজলুপুর ও উড়িয়া ইউনিয়নে দেড় শতাধিক পরিবার ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। এসব এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।
 
ফুলছড়ির উড়িয়া ইউনিয়নের পূর্ব রতনপুর গ্রামের লাকী বেগম জানালেন, এক সপ্তাহ যাবত পানিবন্দি। ছেলেমেয়েদের মামার বাড়ি পাঠিয়েছেন। বাড়িঘর নিয়ে বহুত কষ্টে কোমর পানিতেই আছেন স্বামী-স্ত্রী। শুকনো খাবার বলতে ঘরে তেমন কিছু নেই। খাবার যাই হোক, টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বেশি কষ্টে আছেন তারা। কিন্তু তারপরও বিশুদ্ধ পানির অন্য উৎস না থাকায় ডুবে যাওয়া টিউবওয়েলের পানি দিয়ে চলছে নিত্যদিনের কাজকর্ম। রোগব্যাধি হতে পারে জানা সত্ত্বেও ওই টিউবওয়েলের পানিই পান করতে হচ্ছে তাদের।
 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, 'কামারজানির ভাঙন বেশ কিছুদিন ধরেই আছে এবং আমরা ওখানে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, আমরা সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। এছাড়া সব এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো হয়েছে।
 
বন্ধ ১৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১২৩টি ও মাধ্যমিক ৯টি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মণ্ডল জানান, এরমধ্যে সুন্দরগঞ্জে ১৫টি, গাইবান্ধা সদরে ১৯টি, ফুলছড়িতে ৫৯টি ও সাঘাটা উপজেলায় ৩০টি। এসব বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষে পানি উঠেছে। এছাড়া আরও বেশকিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।
 
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, ৯টির মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ১টি হাইস্কুল ও ১টি মাদ্রাসা, ফুলছড়িতে ৪টি হাইস্কুল ও ২টি মাদ্রাসা ও সাঘাটায় ১টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
 
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, 'উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ কর্মস্থলের বাইরে না যেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তারা বন্যা ব্যবস্থাপনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করবে।'
 
ইত্তেফাক/জামান