মানিকগঞ্জে পোস্ট মাস্টারের ফার্মেসিতে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের চর-ঘোস্তা গ্রামের ডাক-ঘরটির কার্যক্রম এখন ঔষধের দোকানে চলছে । আশে পাশের আনুমানিক ১২ টি গ্রামের মানুষের ডাক-ঘর এটি। প্রতিদিন চিঠি পত্র না আসলেও এখানে অনেক চিঠি পত্র কিন্তু আদান প্রদান হয়।  দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে চিঠি আদান প্রদান হয়। নেই কোনো ডাকবাক্স।
 
জানাযায়, ১৯৮৯ সাল থেকে চরঘোস্তা হাটে ভাড়া করা টিনশেড করা ছাপড়াটির মধ্যে ডাকঘরের কার্যক্রম চলছিলো। কিন্তু সেই ঘরটিও ভেঙ্গে যাওয়ায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে ১ কিলোমিটার দুরের চরঘোস্তা পোষ্টমাষ্টারের ঔষধের দোকানেই প্রায় ২ বৎসর ধরে পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম চলছে।
 
স্থানীয়রা জানান,  ঔষধের দোকানে চলছে পোস্ট অর্ডারের কাজ।  সবাই এখানেই চিঠি আদান প্রদান করে। অনেকে হয়তো জানেও না তাদের পোস্ট অফিস কোথায়। এ ব্যাপারে পোস্টমাস্টার ও ঔষধের দোকানদার  ফজর ও আলীর সাথে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের আগের ভাড়া পোষ্ট অফিসটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে ব্যাবহারের  অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমরা আমার ঔষধের দোকানেই পোস্ট অর্ডারের  কাজ করি।
 
পিয়ন রফিজ উদ্দিন জানান, চর- ঘোস্তা  বাজারে পোষ্ট অফিস আছে। কিন্তু সেটি ভেঙে যাওয়ার কারণে আমি পোষ্ট মাষ্টারের দোকানেই পোষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করি। পুটাইল ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, পোষ্ট অফিস ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে পোষ্ট কার্যক্রম আপাতত পোষ্ট মাষ্টারের ঔষুধের দোকানে চলছে। তারা  ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে দ্রুত একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
 
স্থানীয় ইউপি সদস্য পান্নু মিয়া জানান, পোষ্ট অফিসটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে পোষ্ট কার্যক্রম পোষ্ট মাষ্টারের ঔষধের দোকানে চলছে । যেহেতু ইউপি চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা হলে আমরাও তার সাথে সকলে মিলে মিশে এটির কার্যক্রম যেন ভালোভাবে চালু হয় তার সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। প্রয়োজনে এটিকে অন্যত্র সরিয়ে এটির কার্যক্রম পরিচালনা করব।
 
জেলা পোস্টমাস্টার মোঃ মাজাহারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হয় তো বা তাদের নিরাপত্তার জন্য তারা সেখানে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপরস্থ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ  করতে হবে।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির