গাজীপুরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পাঁচদিন পর শুক্রবার ভোরে এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে জয়দেবপুর থানার পুলিশ। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের বোর্ডবাজারের বাদে কলেমেশ্বর এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার হয়।
নিহতের নানী সাহানা বেগম জানান, তার নাতনি মোসা. বীথি আক্তার (৬)। স্থানীয় হোসেন আলী স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের জাঝিরা থানার পাচুখার কন্দি এলাকায়। বীথির বাবা বিল্লাল হোসেন মালয়েশিয়া প্রবাসী। নিহতের নানা ধলু সরদার বোর্ডবাজার এলাকায় ভাঙাড়ির ব্যবসা করেন। সে সুবাদে নানা ধলু সরদারের সঙ্গে বীথি ও তার মা বাদেকলেমেশ্বর এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
নানা ধলু সরদার জানান, গত সোমবার বিকাল ৪টার দিকে বীথি প্রাইভেট পড়ে দুতলার বাসা থেকে নিচে নেমে খেলাধুলা করে। এক পর্যায়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেও পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাদের কাছে বীথির মুক্তিপণ হিসেবে প্রথমে ১৬ লাখ টাকা দাবি করে। এত টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ বাবদ ১০ লাখ, পাঁচ লাখ সব শেষ তিন লাখ টাকা দাবি করে। অপহৃতের পরিবার তিন লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। বিনিময়ে তাদের সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চায়। এদিকে অপহরণের পর দিনই নানা ধলু মিয়া বাদী হয়ে এ ব্যাপারে জয়দেবপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
জয়দেবপুর থানার এসআই সাদেকুর রহমান জানান, মামলার সূত্র ধরে মুক্তিপণ চাওয়া মোবাইল ফোন নম্বরটি দিয়ে অপহরণকারীদের ধরার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় যে আটজনকে আটক হয়েছে তাদের মধ্যে শিশুটি অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মাথা ও দেহের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/জামান