গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত, নদী ভাঙছে

 
গাইবান্ধার বন্যা পরিস্থিতি শুক্রবার পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের গোঘাট, ফুলছড়ির কুচখালি, হারোডাঙ্গা, কাবিলপুর এলাকা অব্যাহত ভাঙনে এখন বিপন্ন।
 
এরমধ্যে ভাঙনের ফলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বন্যার পানির স্রোতে কামারজানি ইউনিয়নের কলমু এসএমসি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী গর্ভে চলে গেছে। শুধু তাই নয়, কামারজানির গোঘাট এলাকায় বসবাসরত প্রায় ৭০টি বাড়িঘর ভিটেমাটি ভেঙে গেছে। এছাড়া বন্যার পানির তীব্র স্রোতের কারণে ফুলছড়ি উপজেলার সিংড়িয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি হুমকির মুখে পড়েছে। জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল তাৎক্ষনিক ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
 
এদিকে বন্যা কবলিত ৪টি উপজেলায় প্রায় তিন লাখের অধিক মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।সরকারিভাবে যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় একেবারে নগণ্য। কোন রাজনৈতিক দল, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বা এনজিওদের ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়নি। ফলে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষ জনপ্রতিনিধিদের উপর অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েছে।
 
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও  করতোয়া নদীর পানি স্থিতি অবস্থায় আছে।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩২৫ মেট্রিক টন চাল ও ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে অর্ধেক ত্রাণ বন্যা দুর্গত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে। বাকী ত্রাণের বিতরণ কার্যক্রম চলছে। আরও ত্রাণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
 
মাহবুবুর রহমান আরো জানান, বন্যায় ১২ হাজার সাতশ' বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুইশ' ৪১ হেক্টর জমির পাট, আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাকসবজি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/জামান