পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধিতে তীব্র স্রোতের কারণে ২ নম্বর ফেরী ঘাট দীর্ঘ ৫দিন ধরে বন্ধ হয়ে যায়। আর এ কারণে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলাধীন দৌলতদিয়ার ঘাট এলাকায় বাস-ট্রাকের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া ঘাট দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্ব পূর্ণ পয়েন্ট।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৮.৯০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া ফেরী ঘাট থেকে পাটুরিয়াগামী ফেরীগুলো আগের তুলনায় তিনগুণ সময় নিয়ে যানবাহন পারাপার করছে।
অপরদিকে দৌলতদিয়ার চারটি ঘাটের মধ্যে দুই নম্বর ফেরী ঘাটের পল্টুনের র্যাম্প ভেঙে যাওয়ায় দীর্ঘ ৫দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। চার নম্বর ফেরী ঘাটের পল্টনের র্যাম্পে পানি উঠে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন ফেরীতে উঠা-নামা করছে। ঘাটের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘাট এলাকায় নদী ভাঙন রোধে বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে। তিন নম্বর ফেরী ঘাটের পল্টুনের দুইটি পকেটের মধ্যে একটি পকেট সচল আছে। এতে যানবাহন উঠা-নামা করতে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এক নম্বর ঘাটটি তুলনামূলক ভাবেই সচল রয়েছে। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক এবং শতাধিক যাত্রীবাহী বাস পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রী সাধারণ।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলরত কেরামত আলী রো-রো ফেরী মাস্টার অনিল কুমার বলেন, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পারাপারে আগের তুলনায় তিনগুন বেশি সময় লাগছে। পানি বৃদ্ধির আগে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া ঘাটে ফেরী পৌঁছতে আধ ঘণ্টার মতো সময় লাগতো। বর্তমানে নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।
বিআইডব্লিটিসি’র কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরীর মধ্যে বর্তমানে ১৫টি ফেরী যানবাহন পারাপার করছে এবং ২টি ফেরী মেরামতে রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই