কমলনগর নির্মাণাধীন বাঁধে ভাঙন নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

কমলনগর উপজেলায় মেঘনা নদীর নির্মাণাধীন তীর রক্ষা বাঁধে ভাঙন। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ত্রুটিপূর্ণ ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে। কাজের মান যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নৌবাহিনী ও লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকিতে ঘাপলা রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী। ২০১৪ সালে নদীর তীর রক্ষা বাঁধে অর্থ বরাদ্দ উপজেলাবাসীকে যেমন উচ্ছ্বসিত করেছে, বাঁধে ভাঙন তার চেয়ে বেশি আতঙ্কিত করেছে। ইতোমধ্যেই এলাকাবাসী দাবি তুলেছে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আট কি.মি. বাঁধ নির্মাণ যেন সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানো হয়। ভাঙন বিষয়ে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ইয়ার আলী বলেন, ১০০০ মিটার বাঁধের উত্তর অংশের ২০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। কারণ হিসাবে তিনি বলেন নদীর ভিতরে ব্লক দিয়ে গার্ডলাইন তৈরি করে পাড় পর্যন্ত ৪০ মিটার বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে ডাম্পিং করতে হয়। ওই অংশে ডাম্পিং না করাতে বাঁধ ভেঙে গেছে।

বাঁধ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর এজিএম মাসুদ রানা বলেন, ভালো বালু প্রাপ্তিতে অসুবিধা হওয়ায় ডাম্পিং করা সম্ভব হয়নি। কাজের মান যাচাই-এর দায়িত্বে নিয়োজিত এ প্রজেক্ট-এর প্রজেক্ট  অফিসার নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অনারারি লেফটেন্যাান্ট একে শাহা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার জন্য নদীর জোয়ার এবং নিম্নমানের বালুকে দায়ী করছে। মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে কমলনগরের বিশাল জনপদ, গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজারসহ অসংখ্য স্থাপনা। অস্তিত্ব রক্ষার্থে উপজেলাবাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান, হাটসভা পথসভা মানববন্ধন ও হরতালের মত কর্মসূচি পালন করেছে। অবশেষে সরকার ২০১৪ সালে ১৩শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রামগতি কমলনগর মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পে প্রথম ধাপে রামগতি সদর চর আলেকজান্ডারে সাড়ে তিন কি.মি., কমলনগরে মাতাব্বর হাট এলাকায় এক কি.মি. এবং রামগতির হাট মাছঘাট এক কি.মি-এর জন্য ১৯৮ কোটি টাকা ছাড় দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০১৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ১৯ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটেলিয়ন আলেকজান্ডার অংশের কাজ সফলভাবে সমাপ্ত করে। কমলনগর অংশের কাজ পায় নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড লিঃ। অর্থ বরাদ্দেও দুই বছর পর তার ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ-কে দিয়ে ২০১৬ সালে কাজ শুরু করে।

ইত্তেফাক/নূহু