রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, এবার আসন্ন ঈদযাত্রায় ট্রেনের আগাম টিকিট কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হবে। এ ছাড়া চলতি মাসেই চালু হবে রেলওয়ে অ্যাপস, ফলে ঘরে বসেই টিকিট কাটা যাবে বলেও তিনি জানান।
শুক্রবার দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। এর আগে তিনি কমলাপুর রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের অভিযোগের কথাও শোনেন। এ সময় রেলপথ মন্ত্রী পহেলা বৈশাখ থেকে ঢাকা-রাজশাহী রুটে ননস্টপ নতুন ট্রেন চালুর কথা জানান।
পরির্দশনে শেষে সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই রেলওয়ে অ্যাপস চালু হতে যাচ্ছে। এ অ্যাপ চালু হলে রেলওয়ে যাত্রীদের সেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তখন যাত্রীদের আর স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে হবেনা। অনলাইনের মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহার করে সাধারণ যাত্রীরা ঘরে বসেই টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। ফলে যাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি নিয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হবে না।
রলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, পহেলা বৈশাখে আমরা ঢাকা-রাজশাহীর মধ্যে একটি বিরতিহীন ট্রেন চালু করার উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করছি, আমরা সে সময় ট্রেন চালু করতে পারব। ইন্দোনেশিয়া থেকে কোচ আনা হয়েছে, সেগুলো সংযোজন করা হবে ট্রেনটিতে। এ ট্রেনটি বিরতিহীন হওয়ায় অন্য কোনো স্টেশনে দাঁড়াবে না। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে রাজশাহী থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়া-আসা করতে পারবেন যাত্রীরা।
রেলপথমন্ত্রী জানান, ঈদের সময় টিকিট সংগ্রহে যাত্রীদের নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এবার অ্যাপ চালু হলে সচেতন যাত্রীরা ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে অ্যাপস ব্যবহার করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন। এ ছাড়া আমরা চিন্তা করছি ঈদযাত্রায় রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে টিকিট বিক্রির উদ্যোগ নিতে। রেলওয়েকে এগিয়ে নিতে আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আশা করা যায়, খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনগণ রেলের সর্বোচ্চ সেবা পাবেন।
রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৭২টি ট্রেন চুক্তিভিত্তিক বেসরকারিভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই নতুন করে আর কোনো চুক্তি করা হবে না। রেলওয়ে থেকেই আমরা ওই ট্রেনগুলো পরিচালনা করবো। কমলাপুর স্টেশনে বিনা টিকিটে প্রবেশসহ নানা অভিযোগ আছে। আমরা খুব শিগগির ছোট ছোট সব প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেব। একইসঙ্গে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণে জরিমানা অব্যাহত থাকবে।
আরো পড়ুন: ‘সেলফি না তুলে এক বালতি পানি আনলেও উপকার হয়’
তিনি আরো বলেন, আগামী এক বছরে ট্রেনে সাড়ে ৫০০ বগি, ১০০টি ইঞ্জিন এবং ২৫০টি কোচ আসবে। তাছাড়া মিটারগেজ লাইন ধীরে ধীরে বন্ধ করা হবে। সবগুলো লাইন হবে ব্রডগেজ। সরকার চায় রেলওয়েকে আরো ঢেলে সাজাতে এবং জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যেতে। লোকবলের অভাবের অভিযোগ ছিল, সেটাও এখন দূর হওয়ার পথে। আশা করি, সত্যিকারের সেবায় পরিণত হবে রেল।
ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ট্রেন চালু
আসছে পয়লা বৈশাখ ঢাকা-রাজশাহী রেলপথে নতুন বিরতিহীন ট্রেন চালু হচ্ছে। দ্রুতগামী এই ট্রেনের প্রস্তাবিত নাম ‘হিমসাগর’, ‘রূপসী বাংলা’, ‘বনলতা’, ‘গ্রিনসিটি’। এ থেকে একটি নাম নির্ধারণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেলসূত্র জানায়, ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা নতুন আধুনিক বগি যুক্ত করা হবে এই ট্রেন। বর্তমান আন্তঃনগর ট্রেন থেকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা কম সময়ে যাতায়াত করবে এটি। প্রস্তাবিত ভাড়া শোভন চেয়ার ৩৭৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৭১৯ টাকা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে প্রতি আসন ৮৬৩ টাকা এবং বার্থ এক হাজার ২৮৮ টাকা। সকাল ৭টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ১১টায়। আর ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে দেড়টায়; গন্তব্যে পৌঁছাবে বিকেল সাড়ে পাঁচটায়।
কমলাপুর রেলস্টেশন পরির্দশনকালে রেলপথমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলওয়েমন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা এবং কমলাপুর রেল স্টেশনের কর্মকর্তারা।
ইত্তেফাক/এমআই