স্বর্ণদ্বীপ হবে নতুন আরেকটি বাংলাদেশ: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপ হবে নতুন আরেকটি বাংলাদেশ। এই দ্বীপের উন্নয়নে বন মন্ত্রণালয় থেকে সর্বাত্মক সহায়তা করা হবে। দ্বীপটি বসবাস উপযোগী করে তুলতে এখানে তাল, ঝাউ ও কেওড়া গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালীর হাতিয়ার জাহাইজ্জার চর নামে খ্যাত স্বর্ণদ্বীপে সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন এবং স্বর্ণদ্বীপ সমন্বিত সবুজ প্রকল্পের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, এই দ্বীপে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে।                 এখানকার মহিষের খামারিরা দুধ উত্পাদন করে আরো বেশি লাভবান হতে পারেন। বর্তমান সরকারও দুগ্ধ খামারিদের নানা সহায়তা করছে।

এসময় সিইসির নির্বাচনী রোডম্যাপ বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘তারা নেগেটিভ হলে আমরা পজেটিভ। তারা পজেটিভ হলে আমরা নেগেটিভ। এটাই তো আমাদের রাজনীতি।’ আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার অবস্থান থেকে নরম হয়ে আসছেন। এবিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

এর আগে বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে মন্ত্রী সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারযোগে স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছান। এ সময় সেনাবাহিনীর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কুমিল্লার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল রাশেদ আমিন, এমএনকিউ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান বন সংরক্ষক মো. সফিউল আলম চৌধুরী ও বন সংরক্ষক অসিত রঞ্জন পাল মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

স্বর্ণদ্বীপ পৌঁছানোর পর মন্ত্রীকে দ্বীপের ময়নামতি ক্যাম্প মিলনায়তনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বীপে সেনাবাহিনী পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে মন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করেন মেজর জাহিদ উদ্দিন। ব্রিফিংকালে মেজর জাহিদ উদ্দিন বলেন, স্বর্ণদ্বীপের নাম ছিল জাহাইজ্জার চর। নদী থেকে এর উচ্চতা ৩ মিটার। সাগর-নদী বেষ্টিত এই চরটি ছিল এক সময় জলদস্যুদের অভয়ারণ্য। ২০১৩ সালে ৩৭০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই চরটির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। সরকারের সহায়তা ও সেনাবাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চরটিকে ইতোমধ্যে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। পরবর্তীতে সেনা সদরের প্রস্তাবে এই চরের নামকরণ করা হয় স্বর্ণদ্বীপ।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ইতোমধ্যে স্বর্ণদ্বীপে প্রায় ৬০ হাজার ঝাউগাছ, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ভিয়েতনামের ১৫শ সিয়াম নারকেলের চারা ও ১৭শ ফলদ গাছ লাগানো হয়েছে। এখানে হাঁস, মুরগি, ভেড়া, মহিষের খামার গড়ে তোলা হয়েছে। মহিষের দুধ থেকে পনির উত্পাদনে কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। দ্বীপটি রক্ষায় ১০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের  সহায়তায় ৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ দ্বীপে ২টি মাল্টিপারপাস সাইক্লোন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এমন আরো ৩টি সেন্টার স্থাপন করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে বর্গাচাষ, মহিষ-ভেড়া পালন, মাছ চাষসহ বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত ৪৩৭৯টি পরিবারের ১৬৩৭০ জন দরিদ্র মানুষ এ দ্বীপের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ সুবিধা পাচ্ছে।

ব্রিফিং শেষে মন্ত্রী ময়নামতি ক্যাম্পের সামনে এক মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুত্ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী মহিষের দুধ থেকে পনির উত্পাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রী খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে মন্ত্রী খামারিদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাঁদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে মন্ত্রী একটি নারকেল গাছের চারা রোপণ করেন। এছাড়া তিনি প্রস্তাবিত শেখ হাসিনা সেনানিবাস ঘুরে দেখেন।

এ সময় আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, স্বর্ণদ্বীপের এই প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুবই প্রিয়। এখানে অনেক কিছু করার আছে। মন্ত্রণালয় থেকে যা কিছু করা সম্ভব আমরা করব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলাপ করা হবে। তিনি সবসময় এ দ্বীপের খোঁজ-খবর রাখছেন। তাঁর আন্তরিক সহায়তায় ও সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় এ স্বর্ণদ্বীপ এক সময় আরেকটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত হবে।

মন্ত্রীর পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুর রব, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নবজ্যোতি খীসা, হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/নূহু